প্রিন্ট এর তারিখঃ মার্চ ২৫, ২০২৬, ৩:০৯ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ নভেম্বর ২২, ২০২৫, ৪:৩৯ পি.এম
গৌরীপুরে দুই শত বছরের শ্মশানঘাট পুনরুদ্ধার

মোঃ মোরসালিন, গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি।।
ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার মইলাকান্দা ইউনিয়নের পশ্চিম পাড়ায় দুই শত বছরের পুরনো সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শ্মশানঘাট পুনরুদ্ধার করেছে এলাকাবাসী। দীর্ঘদিন বেদখলে থাকা এ ঐতিহ্যবাহী শ্মশান এলাকা শনিবার (২২ নভেম্বর) দুপুর সাড়ে বারোটায় হিন্দু-মুসলিম সর্বস্তরের মানুষের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে সীমানা নির্ধারণ করা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একটি দুষ্কৃতকারী চক্র শ্মশানের পুরনো জমি দখল করে রাখায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল। বিষয়টি সমাধানে এগিয়ে আসে সাধারণ মানুষ। পশ্চিম মইলাকান্দা শুয়াই নদী সংলগ্ন শ্মশানঘাটে সেদিন উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্য ও এলাকাবাসী।
ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মনজুর ফকির বলেন, “জায়গাটি নিয়ে বহুদিন ধরে বিরোধ চলছিল। আজ সকলের উপস্থিতিতে শ্মশানঘাটের সীমানা চূড়ান্ত হওয়ায় সমস্যা সমাধান হয়েছে।”
স্থানীয় বাসিন্দা আনোয়ার খান সুপ্লভ বলেন, “কিছু ভূমিদস্যু বহুদিন ধরে শ্মশানের জায়গা দখলে রেখেছিল। আজ হিন্দু-মুসলিম সবাই মিলে শ্মশানঘাট পুনরুদ্ধার করেছি—এটা আমাদের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বড় উদাহরণ।”
একই গ্রামের সৈয়দ এচ এম ঋজুও জানান, “পশ্চিম পাড়ার মানুষ বরাবরই সম্প্রীতির দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। বহু পুরোনো শ্মশানটি আজ এলাকাবাসী যৌথভাবে বুঝিয়ে দিয়েছে—এটা আমাদের ঐতিহ্য।”
পশ্চিম মইলাকান্দা শ্মশানঘাটের সভাপতি স্বপন দত্ত দাস বলেন, “দুই শত বছরের এই শ্মশানঘাট আমাদের পূর্বপুরুষদের স্মৃতি ধারণ করে আছে। বহু বছর ধরে একটি চক্র জায়গাটি দখল নিতে চাইছিল। আজ আমরা সবাই মিলে সীমানা নির্ধারণ করায় স্বস্তি ফিরেছে।”
গ্রামের শতবর্ষী সনাতন ধর্মাবলম্বী সুনীল চন্দ্র দাস জানান, “এই শ্মশান আমাদের দুই পুরুষের ঐতিহ্য। আমরা প্রশাসনের কাছে আবেদন জানাই—সরকারিভাবে জায়গাটি পুনর্নির্মাণ করে যেন আমাদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়।”
এ বিষয়ে গৌরীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফিয়া আমিন পাপ্পা বলেন, “শ্মশানের জমি নিয়ে বেদখলের কোনো অভিযোগ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে পাইনি। তবে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখতে এসিল্যান্ডকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
Copyright © 2026 বাংলার টিভি লাইভ. All rights reserved.