আবু ইউসুফ নাঈম, জামালগঞ্জ (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি।।
সুনামগঞ্জ জেলার জামালগঞ্জ উপজেলার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের বেহাল দশায় জনজীবনে চরম দুর্ভোগ নেমে এসেছে।
জামালগঞ্জ-জামলাবাজ-নোয়াগাঁও বাজার, জামালগঞ্জ-মান্নানঘাট-সেলিমগঞ্জ-গাগলাজুর ও দক্ষিণ কামলাবাজ-নয়াহালট সড়কপথে এখন প্রাণ হাতে নিয়ে চলতে হয় যাত্রী ও চালকদের।
২০২২ সালের ভয়াবহ বন্যায় সড়কপথ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপর কিছু জায়গায় নামমাত্র সংস্কার হলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। বর্তমানে এসব সড়কজুড়ে ছড়িয়ে আছে গর্ত, ইট সলিং সরে গিয়ে উঠে এসেছে মাটি। এতে ছোট-বড় যানবাহন চলাচলে মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, শাখাইতি মাদ্রাসা থেকে শুরু করে জামালগঞ্জের নয়াহালট, চানপুর ব্রিজ, মান্নানঘাট, সেলিমগঞ্জ, আলিপুর, গজারিয়া হয়ে গাগলাজুর পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে রাস্তাগুলো গর্তে ভরা। বিশেষ করে চানপুর ব্রিজের এপ্রোচ অংশ ধসে গিয়ে তৈরি হয়েছে বিশাল গর্ত—যা হয়ে উঠেছে দুর্ঘটনার ফাঁদ।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এই পথে চলাচল করা এখন এক দুঃস্বপ্ন। অসুস্থ, শিশু ও বৃদ্ধদের চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
গজারিয়া গ্রামের গাড়িচালক মো. মাশুল মিয়া বলেন, এই রাস্তায় আমাদের প্রতিদিন দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে চলতে হয়। যানবাহনের বারবার ক্ষতি হয়, রাস্তায় ইটের টুকরার কারণে গাড়ি নিয়ন্ত্রণে রাখা কষ্টকর হয়ে পড়ে।
একই গ্রামের মোটরসাইকেলচালক পলাশ মিয়া জানান, প্রতিদিন গর্তের সংখ্যা বাড়ছে। কোনো কোনো জায়গায় চাকা রাখার মতো জায়গাও নেই। প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটে। সবচেয়ে কষ্ট হয় শিশু ও অসুস্থদের নিয়ে চলাচলে।
চানপুর গ্রামের পেশাদার চালক আজমান আলী বলেন, আমরা শত শত মোটরসাইকেল, অটোরিকশা, সিএনজি চালক জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন রাস্তায় নামি। দুর্ঘটনায় কেউ পঙ্গু হয়, কেউ মারা যায়।
একই অভিজ্ঞতা সিএনজি চালক রফিক মিয়ার। তিনি বলেন, রাস্তাটি এতটাই ভেঙে গেছে যে গাড়ি চলাচল প্রায় বন্ধ হওয়ার মতো। একটু অসতর্ক হলেই ঘটছে দুর্ঘটনা।
সিলেট জজ কোর্টের আইনজীবী এডভোকেট শফিকুল ইসলাম সবুজ, যিনি জামালগঞ্জ হয়ে মোহনগঞ্জ যাতায়াত করেন, বলেন, শাখাইতি থেকে জামালগঞ্জ পর্যন্ত রাস্তায় মোটরসাইকেলের এক চাকা রাখারও জায়গা নেই। এই পথ দিয়ে ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা ও সুনামগঞ্জের বহু পেশাজীবী প্রতিদিন চলাচল করেন। দ্রুত সংস্কার প্রয়োজন।
অব্যবস্থাপনা, অনিয়ম, দুর্নীতির অভিযোগ
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতি বছর কোটি টাকার কাজ হলেও সঠিক পরিকল্পনা ও টেকসই উন্নয়নের অভাবে সড়কগুলো বারবার ভেঙে পড়ে। কাজের মান খারাপ, নজরদারির অভাব প্রকট।
জামালগঞ্জ উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী মো. ছানোয়ার হোসেন বলেন, জামালগঞ্জ-জয়নগর-কাঠইর পর্যন্ত ১১.৩ কিমি এবং জামালগঞ্জ-গাগলাজুর সড়কটি এক দশক ধরে অবহেলায় রয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জিওবি মেইনটেন্যান্স প্রকল্পের আওতায় এসব সড়ক সংস্কারের পরিকল্পনা রয়েছে। সড়ক মেরামতের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে, অনুমোদন পেলে সেপ্টেম্বরের মধ্যেই টেন্ডার আহ্বান করা হবে।
তিনি আরও জানান, দক্ষিণ কামলাবাজ-নয়াহালট সড়কে একটি নতুন ব্রিজ নির্মাণও জরুরি হয়ে পড়েছে। এটি হিলিপ প্রকল্প-এর আওতায় সংশ্লিষ্ট অর্থবছরে বাস্তবায়নের অপেক্ষায় রয়েছে।
জেলা এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, জামালগঞ্জের দুটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক সংস্কারে বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। আশা করছি, অনুমোদন পেলে দ্রুত কাজ শুরু করা যাবে।