নিজস্ব প্রতিনিধি।।
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা নির্বাচন অফিসে সেবার পরিবেশে ইতিবাচক পরিবর্তনের দাবি করেছেন সেবাগ্রহীতারা। নতুন উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবির দায়িত্ব গ্রহণের পর দালালদের দৌরাত্ম্য নিয়ন্ত্রণ, সেবাগ্রহীতাদের হয়রানি কমানো এবং নাগরিক সেবায় স্বচ্ছতা বাড়াতে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগে স্বস্তি ফিরেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংশোধন, নতুন ভোটার নিবন্ধন, তথ্য হালনাগাদসহ বিভিন্ন সেবা নিতে প্রতিদিনই এ কার্যালয়ে আসেন অসংখ্য মানুষ। সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ, অতীতে এসব কাজ করতে গিয়ে দীর্ঘসূত্রতা, মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য ও নানা ধরনের ভোগান্তির মুখে পড়তে হতো। তবে সাম্প্রতিক সময়ে আবেদন গ্রহণ, প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান এবং সেবা কার্যক্রমে আগের তুলনায় শৃঙ্খলা এসেছে বলে তাঁদের দাবি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই নির্বাচন অফিসকে দালালমুক্ত রাখতে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবির। অফিসের ভেতরে দালালদের প্রবেশ ও সেবাগ্রহীতাদের বিভ্রান্ত করার সুযোগ নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে সাধারণ নাগরিকেরা সরাসরি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য ও সেবা পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন সেবাগ্রহীতারা।
স্থানীয় বেলাল উদ্দিন, রাসেল মিয়া, সফিক সরকার সহ কয়েকজন সেবাগ্রহীতা জানান, আগে বিভিন্ন কাজের জন্য নির্বাচন অফিসে এসে মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণে বিড়ম্বনায় পড়তে হতো। কাজ করে দেওয়ার কথা বলে অতিরিক্ত টাকা দাবি ও হয়রানির অভিযোগও ছিল। বর্তমানে দালালদের দৌরাত্ম্য কমে আসায় তাঁরা স্বস্তি বোধ করছেন। তাঁদের মতে, সরকারি সেবা পেতে সাধারণ মানুষকে যেন কোনো মধ্যস্বত্বভোগীর ওপর নির্ভর করতে না হয়, তা নিশ্চিত করা জরুরি।
সেবাগ্রহীতাদের প্রত্যাশা, নির্বাচন অফিসের এই ইতিবাচক পরিবর্তন অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে সেবার নির্ধারিত সময়, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, আবেদনপ্রক্রিয়া ও সংশ্লিষ্ট ফি সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য নিশ্চিত করা গেলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও কমবে। পাশাপাশি অভিযোগ গ্রহণ ও দ্রুত নিষ্পত্তির কার্যকর ব্যবস্থা থাকলে অফিসের প্রতি নাগরিকদের আস্থা বাড়বে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবির বলেন, সেবাগ্রহীতাদের হয়রানি কমিয়ে দ্রুত, স্বচ্ছ ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে সেবা প্রদানকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আবেদন গ্রহণ, তথ্য যাচাই ও এনআইডি-সংক্রান্ত কার্যক্রম নির্ধারিত নিয়মে সম্পন্ন করার পাশাপাশি নাগরিকদের প্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কোনো সেবাগ্রহীতা হয়রানি বা অনিয়মের শিকার হলে লিখিতভাবে অভিযোগ জানালে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।