নিজস্ব প্রতিনিধি।।
কুমিল্লার মুরাদনগর থানা এলাকাকে মাদকমুক্ত করার লক্ষ্যে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন মুরাদনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন চৌধুরী। প্রতি শুক্রবার মুরাদনগর থানা এলাকার বিভিন্ন মসজিদে নামাজ পড়তে গিয়ে মাদকবিরোধী জনসচেতনতামূলক বার্তা দিয়ে যাচ্ছেন তিনি। তার-ই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার (৩ জুলাই) জুমার নামাজকে কেন্দ্র করে উপজেলার কামাল্লা ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের কামাল্লা উত্তরপাড়া শাহাব বাড়ি বাইতুল আমান জামে মসজিদে উপস্থিত হয়ে তিনি মুসল্লীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং মাদকবিরোধী বার্তা পৌঁছে দেন।
জুমার নামাজের পূর্বে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় ওসি আনোয়ার হোসেন চৌধুরী মাদক, ইভটিজিং, বাল্যবিবাহ ও আত্মহত্যার মতো সামাজিক ব্যাধি প্রতিরোধে সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, “শুধু পুলিশের একার পক্ষে সমাজের সব সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়। নিরাপদ ও সুস্থ সমাজ গঠনে জনগণের সচেতন অংশগ্রহণ ও সহযোগিতা প্রয়োজন।”
তিনি জানান, ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন (কায়কোবাদ) ঘোষিত মাদকমুক্ত মুরাদনগর গড়ার লক্ষ্য বাস্তবায়নে পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। মাদকসেবী ও মাদক কারবারিদের বিষয়ে তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “যে কোনো তথ্য গোপনীয়তার সঙ্গে গ্রহণ করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
নামাজ শেষে ওসি উপস্থিত মুসল্লীদের বিভিন্ন সমস্যা ও অভিযোগ মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেন। পাশাপাশি ইউনিয়নভিত্তিক মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক কার্যক্রম আরও জোরদার করার কথাও জানান তিনি।
এ সময় শিপন চৌধুরী, ক্যাপ্টেন (অব:) হারুনুর রশিদসহ মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন এবং বিপুল সংখ্যক মুসল্লী উপস্থিত ছিলেন।
উপস্থিত মুসল্লিরা বলেন, গত শুক্রবার মুরাদনগর থানার ওসি সাহেবের উপস্থিতিতে কামাল্লা ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ড কে মাদকমুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। আজ ওসি সাহেবের উপস্থিতিতে ২ নং ওয়ার্ড কে মাদকমুক্ত ঘোষণা করা হযলো। ধীরে ধীরে কামালা ইউনিয়ন মাদক মুক্ত একটি ইউনিয়ন হিসেবে উপজেলা পরিচিত হবে।
স্থানীয়দের মতে, মসজিদভিত্তিক এ ধরনের সচেতনতামূলক উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং পুলিশ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতার সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করবে।