মো. রাসেল মিয়া, মুরাদনগর (কুমিল্লা)।।
“মুক্তিযোদ্ধাদের ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা আমাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। তাদের যথাযথ সম্মান নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সমাজের নৈতিক দায়িত্ব।” বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ।
তিনি আরো বলেন, “ওনাদের আত্মত্যাগের কারনেই আজকে আমরা একটি স্বাধীন দেশ পেয়েছি। যার কারনে আজকে আমি এমপি- মন্ত্রী হতে পেরেছি। শুধু দিবসে নয়, ওনাদেরকে প্রতিটা মুহুর্তে সম্মান দিতি হবে।” তিনি সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্য করে বলেন, ওনারা যখন কোন প্রয়োজনে অফিসে আসবেন, ওনাদেরকে যথাযথ সম্মান ও ওনাদেরকে প্রাধান্য দিতে হবে।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে কুমিল্লার মুরাদনগরে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা প্রদান ও পুরস্কার বিতরণ করা হয়। এ উপলক্ষে বেলা ১২ টায় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নবনির্মিত উপজেলা পরিষদের মুক্তিযোদ্ধা হলরুমে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ. বি. এম. সারোয়ার রাব্বীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ।
সমাজসেবা কর্মকর্তা বরুণ চন্দ্র দে এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত বীর মুক্তিযোদ্ধারা মহান মুক্তিযুদ্ধকালীন তাদের বীরত্বপূর্ণ দুঃসাহসিক অভিযানের বর্ণনাসহ বিভিন্ন স্মৃতিচারণ করেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন মুরাদনগর সার্কেল এ কে এম কামরুজ্জামান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাকিব হাছান খাঁন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা পাভেল খান পাপ্পু, মুরাদনগর থানার চার্জ অফিসার ও পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন চৌধুরী, বাঙ্গরা বাজার থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার হারুনুর রশিদ সহ স্থানীয় প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবার এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
অনুষ্ঠানে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা প্রদান এবং তাদের অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি অসহায় ও নিম্নবিত্ত মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তায় মন্ত্রীর পক্ষ থেকে ৫ লক্ষ টাকার আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়েছে।