নিজস্ব প্রতিনিধি।।
কুমিল্লার মুরাদনগরে মানববন্ধনে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অপপ্রচারের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন শরীফ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ ও তার পরিবার।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বেলা ১১টায় উপজেলার জাহাপুর ইউনিয়নের শুশুন্ডা গ্রামে নিজ বাড়িতে এ সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি। শুশুন্ডা আলিয়া মাদরাসার চুরির ঘটনার মামলাকে কেন্দ্র করে গত শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) এক মানববন্ধনে শরীফ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ ও তার বাবা এবিএম সিদ্দিকুর রহমানের নামে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ এনে তাদের সুনাম ক্ষুন্ন করার প্রতিবাদে এ সংবাদ সম্মেলন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে শরীফ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ বলেন, আপনারা অবগত আছেন যে, গত শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) শুশুন্ডা বাজারের বাখরাবাদ রোডে এক মানববন্ধনে এক শ্রেনির কিছু অসাধু গ্রাম্য সালিশকারী আমার ও আমার বাবার বিরুদ্ধে মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন অভিযোগ এনে অপপ্রচার করেছে এবং আমাদের পরিবারের সুনাম ক্ষুন্ন করেছে। তারা স্থানীয় জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির লক্ষ্যে আমার ও আমার বাবার বিরুদ্ধে মাদক সংক্রান্ত মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্য প্রচার করেছে। আমি এই ন্যাক্কারজনক কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
তিনি বলেন, শুশুন্ডা আলিয়া মাদরাসার চুরির ঘটনায় একজনকে ধরে হাত-পা বেঁধে অমানবিক ও পৈশাচিকভাবে নির্যাতন করে গ্রামের সালিশকারীরা প্রথমে ১ লাখ টাকা জরিমানা করে পরে তা কমিয়ে ২০হাজার টাকা করা হয়। তখন আমি ও আমার বাবা এলাকায় ছিলাম না। পরবর্তীতে সেই টাকার জন্য গ্রামের সালিশকারীরা চাপ দিতে থাকে। যখন আমরা এলাকায় আসি তখন চুরির ঘটনায় নির্যাতীতের বাবা আমাদের বাড়িতে এসে আমার বাবার নিকট ঘটনা খুলে বলে। তখন আমি ও আমার বাবা গ্রামের সালিশকারীদেরকে জিজ্ঞেস করি সেই টাকা কেন জরিমানা করেছে এবং সেই টাকা দিয়ে কি করবে। তখন তারা কোন জবাব দিতে না পেরে আমাদের প্রতি ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে বলে, আমরা নাকি চোরের পক্ষ নিচ্ছি। আমাদেরকে গ্রাম ছেড়ে চলে যেতে হবে।
তিনি আরো বলেন, আমরা চোরের পক্ষে কথা বলিনি, তারা যে মব সৃষ্টি করে জরিমানা করেছে সে বিষয়ে বলেছি। বলেছি চোর এই জরিমানা দিতে গিয়ে আরো বড় ধরনের চুরির ঘটনা ঘটাতে পারে। মানুষ অভাবে পড়েই চুরি করে থাকে। তাছাড়া বিচারের জন্য আইন রয়েছে।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, গ্রামের এসব সালিশকারীরা বিচারের নামে এভাবে গ্রামের সাধারন মানুষের কাছ থেকে জরিমানা আদায় করে নিজেরা ভোগ করে। আমি ও আমার বাবা এসব বিষয়ে বাঁধা দেওয়ায় এসব কুচক্রি লোকেরা গ্রামে ছড়ায় আমি ও আমার বাবা নাকি মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত। মানববন্ধনে দুজন যুবককে দিয়ে বলিয়েছে আমরা নাকি মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত। পরে যুবকেরা আমাদের বাড়িতে এসে বলেছে যে, তারা মানববন্ধনে যেতে চায়নি, গ্রামের সালিশকারীরা ডেকে এনে তাদেরকে দিয়ে এসব কথা বলিয়েছে। তিনি আরো বলেন, সবাই জানে আমার বাবা অত্র এলাকার একজন সানামধন্য ব্যক্তি। আমাদের পরিবার একটি সম্ভ্রান্ত পরিবার। মানববন্ধনে আমার ও আমার পরিবারের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অপপ্রচার করে সমাজে আমাদের সুনাম ক্ষুন্ন করেছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
মান হানির বিষয়ে আইনের দারস্থ হবেন কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, সাংবাদিকরা হলেন সমাজের চোখ। আমরা প্রথমে আপনাদের মাধ্যমে সমাজকে বিষয়টা জানাতে চাই। পরবর্তীতে অবশ্যই আমরা আইনের আশ্রয় নেব।
সংবাদ সম্মেলনে শরীফ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহর স্ত্রী ও তার পরিবারের সদস্যরাসহ প্রতিবেশীরা উপস্থিত ছিলেন।