সাহেব আলী, হবিগঞ্জ সদর, প্রতিনিধি।।
হবিগঞ্জ জেলায় বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। গত ২৪ ঘণ্টায় উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত না হওয়ায় নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। তবে পানি কমলেও পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টিতে সৃষ্ট এই আকস্মিক বন্যায় জেলার কৃষি খাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির চিহ্ন রেখে যাচ্ছে।
পরিস্থিতির বর্তমান অবস্থা
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী মঞ্জুর রহমান জানিয়েছেন, আগের দিনের তুলনায় বর্তমানে জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। নদ-নদীর পানি ধীরগতিতে নামতে শুরু করায় জনমনে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও নিচু এলাকাগুলো এখনো জলমগ্ন।
কৃষিখাতে বড় বিপর্যয়
বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও জেলার কৃষকদের কপালে এখন চিন্তার ভাঁজ। বিশেষ করে নবীগঞ্জ উপজেলার হাওর অঞ্চলগুলোতে পাহাড়ী ঢল ও টানা বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে শত শত একর জমির পাকা বোরো ধান।
ক্ষয়ক্ষতির ধরন: হাওরাঞ্চলে থৈ থৈ পানির নিচে এখন কৃষকের ঘাম ঝরানো সোনালী ফসল। অনেক জায়গায় কাটার অপেক্ষায় থাকা ধান পানির নিচে পচে নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
কৃষকের আর্তনাদ: বোরো ধানের ওপর নির্ভরশীল হাজারো কৃষকের স্বপ্ন এখন অনিশ্চয়তার মুখে। ফসল হারিয়ে অনেক কৃষক এখন নিঃস্ব হওয়ার পথে।
আশার আলো
আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং বৃষ্টিপাত না হলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য সরকারি প্রণোদনা ও পুনর্বাসন সহায়তা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পাহাড়ি ঢলে নবীগঞ্জের তলিয়ে যাওয়া বোরো ধান।