
মুরাদনগর (কুমিল্লা) প্রতিনিধিঃ
রোজা ইসলাম। মাত্র চার দিন আগে মায়ের গর্ভ থেকে পৃথিবীর আলোয়ে
আসা তার। যে সময়ে মায়ের কোলে থেকে উষ্ণ আদরে আহ্লাদে সময় পার করার কথা,
সেই সময়ে সে মুখে তালমিরছি দিয়ে নানী আছিয়া বেগমের কোলে শুয়ে আছে
তপ্ত রোদে। নানী তাকে কোলে নিয়ে একটি অটোরিক্সায় বসে আছেন পরীক্ষা
কেন্দ্রের অদূরে। কারণ মা আয়শা আক্তার দিচ্ছেন এসএসসি পরীক্ষা। কুমিল্লার
মুরাদনগর উপজেলার গোমতি নদীর বেরিবাঁধে এভাবেই বসে থাকার দৃশ্য চোখে
পরে বৃহস্পতিবার শুরু হওয়া এসএসসি পরিক্ষার কেন্দ্র পরিদর্শক দলের সদস্য উপজেলা
স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.নাজমুল আলমের।
মুরাদনগর নুরুন্নাহার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সৈয়দা
হাসিনা আক্তার বলেন, পরীক্ষার্থী আয়শা আক্তার অন্য স্কুলের ছাত্রী তাই আগে থেকে
আমি তার সমস্যা জানি না। বিষয়টি জানার পরপরই শিশুটিকে নিয়ে যাতে তার
নানি স্বাস্থ্য সম্মত পরিবেশে থাকতে পারে সেই ব্যবস্থা করবো। পরবর্তী পরীক্ষা
থেকে তার পাপ্য সুবিধা দেয়ার প্রস্তুতিও নিচ্ছি আমরা।
আলীরচর তায়মোস বেগম উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী আয়শা
আক্তার বলেন, ‘তিনদিন আগে আমার কন্যা সন্তান হয়েছে। ভয় পাই, তাই
মেডিকেল সিটে বসে পরীক্ষা দিচ্ছি না। প্রধান শিক্ষক সৈয়দা হাসিনা আক্তার
ম্যাডাম ও ডা.নাজমুল আলম আমাকে অনেক সাহস ও ভরসা দিয়েছেন। আশা করছি
সামনের পরীক্ষাগুলো আরো ভালোমতো দিতে পারবো। আমি ও আমার পরিবার বেশ খুশি।