নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
ট্রান্সমিশন-১ ফেইল, বিদ্যুৎবিহীন অর্ধেক দেশ।
ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগ ব্ল্যাক-আউট।
ব্ল্যাক আউট কি? এই ঘটনার পিছে কারন কি?
ব্ল্যাক আউট: আমাদের দেশে ২০১৪ সালের ১ নভেম্বর বেলা ১১টা ২৭ মিনিটে সারাদেশ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। টানা ১২ ঘণ্টা পুরো দেশে বিদ্যুৎ ছিল না। দেশজুড়ে এই ভয়াবহ বিদ্যুৎ বিপর্যয় ব্ল্যাক আউট নামে পরিচিত।
আজকে দক্ষিণ অঞ্চল ব্ল্যাক আউট হয়েছে।প্রাথমিক ভাবে ধারনা করা হচ্ছে ট্রান্সমিশন লাইন-১ এ সমস্যা হওয়ার দক্ষিণ অঞ্চলে বিদ্যুৎ বন্ধ বা ব্ল্যাক আউট।
একটি দেশের গ্রীড সিস্টেমকে জাতীয় গ্রীড বলা হয়। আর জাতীয় গ্রীড সাধারনত ইনফাইনেট (Infinate) বাস হয়। যে বাসের ভোল্টেজ বা ফ্রিকুয়েন্সি লোড বৃদ্ধির কারনে বৃদ্ধি পায়না, সেটাকেই ইনফাইনেট বাস বলে। আমাদের দেশের বানিজ্যিক ফ্রিকুয়েন্সি ৫০ হার্টজ। কোন কারনে যেন এটা না কমে, সেজন্যই প্রতিটি দেশেই ইনফাইনেট বাস ব্যবহার করা হয়ে থাকে। একটা দেশের গ্রীড সিস্টেম বিভিন্ন পাওয়ার প্লান্টের সাথে সংযুক্ত। এছাড়া অন্য দেশের গ্রীড সিস্টেম বা লাইনের সাথেও যুক্ত থাকে। এখন যদি আপনি পূর্ব পরিকল্পনা ছাড়া হঠাৎ করে অন্য দেশের গ্রীড বন্ধ করে দেন, তাহলে ফুল লোডের চাপ জাতীয় গ্রীডের উপর পরে। হঠাৎ করে লোড অনেক বেশি বৃদ্ধি পাওয়ার কারনে ফ্রিকুয়েন্সি কমে যায়। আমদের জেনারেটর এমন ভাবে সংযোগ করা থাকে, যেন নির্দিষ্ট ফ্রিকুয়েন্সির নিচে নামলেই জেনারেটর অটোমেটিক বন্ধ হয়ে যায়। এমনটাই হয়েছিল সেদিন। হঠাৎ লোড বৃদ্ধি পাওয়ার কারনে ফ্রিকুয়েন্সি কমে যায়। তাই পাওয়ার প্লান্টের জেনারেটর গুলো অটোমেটিক বন্ধ হতে থাকে। যেহেতু সব জেনারেটর গ্রীডের মাধ্যমে ইন্টারকানেক্ট, তাই আস্তে আস্তে সমগ্র ট্রান্সমিশন লাইনের আওতায় এলাকা গুলোতে পাওয়ার কাট হয়ে যায়।
বিবিয়ানা ৪০০কেভি লাইন ট্রিপ করায় সম্পূর্ণ সিলেট সহ ঢাকা এবং অন্যান্য পিজিসিবির ট্রান্সমিশন-১ লাইন ব্ল্যাক আউট হয়ে যায়। এতে করে দেশের প্রায় সব জায়গায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ আছে। ব্ল্যাক আউটের কারণে প্রায় সব জেনারেশন বন্ধ হয়ে গেছে। যা চালু করা সময় সাপেক্ষ। তাই বিদ্যুৎ সরবরাহ আসতে অনেক বেশি সময় লাগতে পারে।