
মুরাদনগর (কুমিল্লা) প্রতিনিধি ঃ
মহাষষ্ঠী মানে মহামায়া লক্ষ্মী, সরস্বতী, গণেশ ও কার্তিকের হাত ধরে সপরিবারে পিতৃগৃহে আগমনের দিন। বাঙালি হিন্দু বিশ্বাস অনুযায়ী ষষ্ঠী তিথিতে বেলতলায় বিহিতপূজার পর দেবীর আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মধ্য দিয়ে কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার সকল পূজা মন্ডপে শুক্রবার থেকে শুরু হয়েছে শারদীয় দুর্গোৎসব।
উলুধ্বনি, শঙ্খনাদ, সঙ্গে ঢোলের বোল আর বন্দনার মাধ্যমে মন্দির আর মন্ডপগুলোতে নানা আনুষ্ঠানিকতায় যোগ দিয়েছেন ভক্তরা। আগামী মঙ্গলবার বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে পাঁচদিনব্যাপী এ উৎসবের।
তিথি অনুসারে এবার দেবী দুর্গা মর্ত্যলোকে ঘোটকে (ঘোড়ায়) চড়ে আগমন করবেন। পাঁচদিনের অর্চনা শেষে আবারও ঘোটকে (ঘোড়ায়) চড়ে মর্তলোক থেকে স্বামীগৃহে কৈলাশে ফিরেন যাবেন।
হিন্দু পূরাণ মতে, দুর্গাপূজার সঠিক সময় হলো বসন্তকাল। তবে বিপাকে পড়ে রামচন্দ্র, রাজা সুরথ এবং বৈশ্য সমাধি বসন্তকাল পর্যন্ত অপেক্ষা না করে শরতকালেই দেবীকে অসময়ে জাগ্রত করে পূজা করেন। সেই থেকে অকাল বোধন হওয়া সত্ত্বেও শরতকালে দুর্গাপূজা প্রচলিত হয়ে যায়।
এবছর মুরাদনগর উপজেলায় ২২টি ইউনিয়নে ১৪৯টি মন্ডপে আয়োজন করা হয়েছে এ উৎসবের। প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিটি পূজান্ডপে আইপি ক্যামেরা স্থাপনসহ নেওয়া হয়েছে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এছাড়া মন্ডপগুলোতে পুলিশ ও আনসার সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি ভিজিল্যান্স টিম গঠন করেছে মুরাদনগর উপজেলা প্রশাসন। উপজেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি প্রফেসার নিত্যানন্দ রায় বলেন, প্রতিটি মন্ডপে ক্যামেরা লাগানোতে আমরা অনেক খুশি হয়েছি । প্রশাসনের ভূমিকাও প্রশংসনীয়।
মুরাদনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আলাউদ্দিন ভূঞা জনী জানান, এ বছর ১৪৯টি পূজা মন্ডপের জন্য ৭৪.৫ মেট্রিক টন চাল দেওয়া হয়েছে।