• শনিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৭:৫৫ পূর্বাহ্ন
Headline
দেশের অস্তিত্ব, কওমি মাদ্রাসা ও তাবলীগের অস্তিত্ব রক্ষায় ধানের শীষে ভোট দিন – কাজী শাহ্ আবু কাউছার মব ভায়োলেন্স বলে কিছু নেই, নির্বাচন হবে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জামালগঞ্জে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী তোফায়েল আহমেদ খানের নির্বাচনী জনসভা বিএনপি প্রার্থীকে সমর্থন জানিয়ে গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থীতা প্রত্যাহার নির্বাচিত হলে জনগণের পরামর্শেই মুরাদনগর চলবে, সন্ত্রাস চাঁদাবাজদের ঠাঁই আমার কাছে হবে না – কায়কোবাদ মুরাদনগরে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ ও শীতকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ মুরাদনগরে গাছে ঝুলছিল যুবকের লাশ, পরিবারের দাবি হত্যা শহীদ জিয়ার দেশপ্রেমকে সম্মান জানিয়ে বিএনপিকে সমর্থন অবসরপ্রাপ্ত সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের রাজশাহীর আলো পত্রিকার বাৎসরিক বনভোজনে সৌহার্দ্যের উচ্ছ্বাস পারিবারিক বিরোধকে রাজনৈতিক হাতিয়ার বানানোর অপচেষ্টার অভিযোগে বিএনপি’র সংবাদ সম্মেলন

মুরাদনগরে ভাঙ্গনের আতঙ্কে রয়েছে অনেকগুলো পরিবার।

Reporter Name / ১৯০ Time View
Update : বুধবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৪

মো. রাসেল মিয়া, মুরাদনগর (কুমিল্লা)।।

ভারতের উজান থেকে আসা গোমতীর পানি কমার সাথে সাথে নদীর তীরবর্তী কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা সদরের চৌধুরীকান্দি এলাকায় তীব্র ভাবে দেখা দিয়েছে ভাঙ্গন। গত সোমবার ও মঙ্গলবার ভোরে অন্তত ১৫টি পরিবারের বসতভিটা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙ্গনের ঝুঁকিতে আছে আরও কয়েকটি পরিবারসহ গোমতীর বেড়িবাঁধ। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি এখনই ভাঙ্গন ঠেকাতে না পারলে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে কয়েকটি গ্রাম সহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলা সদরের চৌধুরীকান্দি এলাকায় নদীর তীরবর্তী ঘরবাড়ি ভেঙে নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এতে ভিটাবাড়ি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে আনোয়ার হোসেন, রিপন মিয়া, শহিদ মিয়া, রাজু মিয়া, সাজু মিয়া, আনিছ মিয়া, শরিফ মিয়া, শাহিনুর বেগম, সকিনা বেগম, হাছান মিয়া, নুরুল ইসলাম, নয়ন মিয়া, হক মিয়া সহ অন্তত ১৫টি পরিবার। এ ছাড়াও নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে কবরস্থান, বৈদ্যুতিক খুঁটি, হাঁস-মুরগির খামার ও মাছের পুকুরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। বর্তমানে নদীর তীরবর্তী আরো বেশ কয়েকটি পরিবার নদী ভাঙ্গনের আতঙ্কে খোলা আকাশের নিচে রাত জেগে পাহারা দিচ্ছে। অনেকেই বসতভিটা থেকে থাকার একমাত্র আশ্রয়স্থলটুকু ভেঙ্গে নিয়ে গেছে অন্যত্র। সর্বক্ষণ ভাঙ্গন আতঙ্কে, অনিদ্রা, অনাহারে প্রহর গুনছেন সহায়সম্বলহীন এই মানুষগুলো। ভাঙ্গন থেকে রক্ষা পেতে সর্বমহলের সহায়তা চেয়ে মানববন্ধনও করেছে এখানকার ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

আনোয়ার হোসেন বলেন, গত ১০ বছরে আমাদের বসত বাড়িসহ আশেপাশের প্রায় দেড় শতাধিক বাড়িঘর গোমতী নদীর ভাঙ্গনের ফলে বিলীন হয়ে গেছে। বাপ-দাদার ভিটেমাটির কোনো চিহ্নই এখন নেই। বর্তমানে যেখানে আছি সেটিও বিলীন হওয়ার পথে। পরিবার পরিজন নিয়ে খুব আতঙ্কে রয়েছি। সব সরকারের আমলেই আমরা এ বিষয়টি জানিয়েছি। জনপ্রতিনিধিরা এসে দেখে নদী ভাঙ্গন রোধের আশ্বাসও দিয়েছে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি।

চার ছেলের চার ঘরসহ নিজের ঘর হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে যাওয়া সিএনজি চালক রিপন মিয়া কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, “আমার সব শেষ হইয়া গেছে। আমি বাচ্চা-কাচ্চা নিয়া এখন কই থাকমু। আমার থাকনের কোন যায়গা নাই। সরকার যদি আমাগোরে থাকনের ব্যবস্থা করে না দেয় তাহলে মরন ছাড়া উপায় নাই।

এ বিষয়ে নবীপুর পশ্চিম ইউপি চেয়ারম্যান ভিপি জাকির হোসেন বলেন, নদী ভাঙ্গনের প্রধান কারণ হচ্ছে, শুকনো মৌসুমে পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোকেদের সহযোগিতায় অবৈধভাবে নদীর পাড়ের মাটি কেটে নিয়ে যায় ইট ভাটায়। বর্ষা মৌসুমে এর প্রভাব না পড়লেও, যখন নদীর পানি কমতে থাকে তখনই ভয়ঙ্কর রূপ নেয় নদী ভাঙ্গন। যা প্রতিনিয়ত বেড়েই চলছে। প্রশাসনের কাছে আমার অনুরোধ এ অবৈধ মাটিকাটা বন্ধ না করতে পারলে একসময় গোমতী নদীর বেড়িবাঁধ টিকিয়ে রাখা কষ্ট হয়ে যাবে।

মুরাদনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ সিফাত উদ্দিন বলেন, এ বিষয়ে আগামী কিছুদিনের মধ্যে নদীর পাড়ের অধিক ঝুঁকিপূর্ণ জায়গা গুলো চিহ্নিত করে কুমিল্লা পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের কাছে একটি তালিকা প্রেরণ করা হবে। তাদের সহযোগিতা পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে নদী ভাঙ্গন রোধ করা সম্ভব।

কুমিল্লা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী খান মোহাম্মদ ওয়ালিউজ্জামান বলেন, গোমতীর পানি কমার সাথে সাথে যে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে ইতিমধ্যেই আমরা সেগুলোর একটা তালিকা করে তা উপমহলে পাঠিয়েছি। নদী ভাঙ্গন রোদে আমাদের কোন নিজস্ব বাজেট নেই, তাই আমরা নিজে থেকে কিছু করতে পারছি না। তবে নদী ভাঙ্গনের একটি অন্যতম কারণ হচ্ছে গোমতীর পাড়ের মাটি কেটে নিয়ে যাওয়া। এই বিষয়ে আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে একাধিক মামলাও করেছি। কোন এক অজানা কারণে এই মামলাগুলোর তেমন সুফল পাচ্ছিনা। আর এই মাটি কাটার সাথে আমাদের কোন কর্মকর্তা জড়িত নয়। যদি কারো বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ বা অভিযোগ থাকে তাহলে অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category