
মো. রাসেল মিয়া, মুরাদনগর (কুমিল্লা)।।
শীতের আগমনী বার্তায় দিন দিন কদর বাড়ছে লেপ, তোশক ও জাজিমের। এসব সামগ্রী তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার লেপ-তোষকের কারিগররা। তবে এবার কনকনে শীতের আমেজ টের পাওয়ার আগেই লেপ-তোশকের দোকানগুলোতে ভিড় করছে ক্রেতারা। কেউ নগদ টাকায় আগে থেকে তৈরি করাগুলো কিনে নিচ্ছেন, কেউ বানানোর জন্য অর্ডার দিচ্ছেন। অনেকে আবার পুরোনো লেপ-তোশক মেরামত করাচ্ছেন।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, মুরাদনগর উপজেলা সদর বাজার, কোম্পানীগঞ্জ বাজার, রামচন্দ্রপুর বাজারসহ বিভিন্ন বাজারের লেপ-তোশকের দোকানগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় জমেছে। কারিগররা তাদের নিপুণ হাতে সুই সুতো নিয়ে করছেন কাজ, তৈরি করছেন বিভিন্ন সাইজের লেপ-তোশক-জাজিম।
ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এ বছর তুলার দাম বেড়ে গেছে। সাথে লেপ ও তোশকের কাপড়ের দাম গজ প্রতি ১৫ থেকে ২০ টাকা বেড়েছে। ফলে এক পিস রেডিমেট লেপ বিক্রি হচ্ছে ১২০০ থেকে ২৫০০ টাকার মধ্যে, তোশক বিক্রি হচ্ছে ১২০০ থেকে ৩২০০ টাকার মধ্যে এবং জাজিম বিক্রি হচ্ছে ৪০০০ টাকা থেকে ৬০০০ টাকার মধ্যে এবং একজোড়া বালিশ বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে ১৮০০ টাকা। শীতের তীব্রতা বাড়লে লেপ-তোশক তৈরি ও বিক্রি বাড়বে এমনটিই প্রত্যাশা ব্যবসায়ীদের।
লেপ কিনতে আসা রহিমপুর গ্রামের ব্যবসায়ী আবু কাউছার বলেন, ‘দিনের বেলায় শীত অনুভূত না হলেও রাতে শীতের তীব্রতা বাড়ে। কাঁথা দিয়ে শীত নিবারণ হয় না। এ জন্য পরিবারের সদস্যদের জন্য লেপ কিনে নিচ্ছি।.
আরেক ক্রেতা শিক্ষিকা আছমা আক্তার বলেন, ‘গত বছরের চেয়ে এবার লেপ-তোশকের দাম একটু বেশি । গত এক সপ্তাহ থেকে শীত অনুভূত হওয়ায় লেপ বানাতে এসেছি। তবে গত বছরের চেয়ে এবছর লেপের তুলার দাম কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা বেশি নিচ্ছেন বিক্রেতারা।’
উপজেলার সদরের করিমপুর গ্রামের বাসিন্দা আয়েশা বেগম জানান, ‘আমার মতো গরীব মানুষের কম্বল কিনার সামর্থ নাই। এই কারণে কম টাকা দিয়া লেপ বানাইয়া নিতাছি।’
কারিগর হাসেম মিয়া জানান, ‘শীত আসার সাথে সাথে লোকজন লেপ-তোশক বানাতে শুরু করে দিয়েছে। আমরাও ব্যস্ত সময় পার করছি। তবে জিনিসপত্রের দাম বেশি হওয়ায় লোকজন তাদের ইচ্ছামতো লেপ-তোশক বানাতে পারছেন না।’
বায়েজিদ বেডিং স্টোরের স্বত্বাধিকারী বিল্লাল হোসেন বলেন, ‘তুলার মান ও পরিমাণের ওপর নির্ভর করে লেপ তোশক তৈরির খরচ। এ বছর জিনিসপত্রের দাম বাড়ায় স্বাভাবিকভাবেই লেপ তোশক তৈরির খরচ বেড়ে গেছে। পাশাপাশি করিগরদের মজুরিও আগের তুলনায় বেশি দিতে হচ্ছে।