আলী হোসেন, ভোলা প্রতিনিধি।।
জট খুলেছে ভোলার আলোচিত হত্যার। গ্রেপ্তার করা হয়েছে সদ্য খুন হওয়া নোমানী হুজুরের পুত্র রেদোয়ান।
একটি মুভি দেখেই পিতা আমিরুল হক নোমানী কে ছুরিকাঘাতে খুন করে রেদোয়ান।
উল্লেখ্য ৬/৯/২০২৫ মাওলানা আমিরুল হক নোমানী বসত ঘরে খুন হয়। হুজুরের খুনের বিষয়প্টিরে নিয়ে পুলিশ প্রাসাশনকে ঘিরে সামাজিক ও রাজনৈতিক মহল জুড়ে আলোচনা সমালোচনা ঝড় উঠেছিল ইতিমধ্যে।
অতঃপর তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে পুলিশ হত্যার রহস্য উদঘাটন করতে সক্ষম হয়েছে।
যেভাবে খুন হয় নোমানী হুজুরঃ--
আজ ১৩ সেপ্টেম্বর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে হত্যার বিষয়টি প্রকাশ করেন পুলিশ সুপার শরিফুল হক।
ঐ বিজ্ঞপ্তিতে আসামী রেদোয়ানের দেয়া তথ্য তিনি জানান মাওলানা আমিরুল হক তার পুত্র রেদোয়ানকে খুব চোখে চোখে রাখতেন, লেখা পড়ার বাহিরে কোন প্রকার আড্ডায় সামিল হওয়া থেকে বিরত রাখেন পুত্রকে।
কিন্তু পুত্র রেদোয়ান (১৭) বাবার শাসন কে তার স্বাধীনতা ক্ষুন্ন করছেন বলেই মনে করতেন। বাবার এই শিষ্টাচার কে মেনে নিতে না পেরে রেদোয়ান একাধিকবার আত্মহননের চেষ্টাও করেছিলেন। আত্মহত্যা করতে না পেরে রেদোয়ান তার বাবাকেই খুন করার স্বীদ্ধান্ত নেন।
সেই সিদ্ধান্ত মোতাবেক রেদোয়ান কিভাবে খুন করা যাবে তার একটি মুভি দেখেন।
মুভির চরিত্র অনুযায়ী রেদোয়ান ছুরি,কালো শার্ট ও ক্যাপ ক্রয় করেন।
প্রথমে রেদোয়ান সিদ্ধান্ত নেন ৪/৯/২০২৫ তারিখ ফজরের নামাজের সময় খুন করবেন তার বাবাকে। কিন্তু ৪ তারিখ দারাজ শপে অর্ডার করা ছুরিটি হাতে পান নি রেদোয়ান। যার জন্য ঐ দিন তার টার্গেট পরিবর্তন হয়েছিল। ৫/ ৯/২৫ তারিখে সে ছুরি পেয়েছিলেন। কিন্তু সেই দিন তার মা তাকে কল করে জানিয়েছেন তার মা জেলার তজুমদ্দিন উপজেলার চাঁদপুরে তার নানা বাড়ি গিয়েছে।
তখন ই রেদোয়ান স্বিদ্দান্ত নেন মা ও ভাই বোন ছাড়া শুন্য বাড়িতেই খুন করা সহজ হবে নোমানী কে।
সেই অনুযায়ী হুজুর ঈশার নামাজ পড়ে বাড়ি গেলে তার পরক্ষনে বাবাকে হত্যার উদ্দেশ্য বাড়ি প্রবেশ করেন ঘাতক পুত্র রেদোয়ান।
ঘরের সামনে গিয়ে বাবাকে দরজা ঘুলতে বলেন ঘাতক ছেলে। বাবা দরজা খুলে দেওয়া মাত্রই বাবাকে ছুরিকাঘাত করতে থাকেন।
দ্বিতীয় খোপের সময় তার বাবা ছুরি ধরে ফেললে বাবা ও ঘাতক ছেলের হাত কেটে যায়। পরে ছেলে বাবাকে রক্তাক্ত ফেলে যাওয়ার সময় মৃত্যু নিশ্চিত করতে মুভির চরিত্রে ভেসে উটলে সর্বশেষ বাবার ঘাড়ে কোপ দিয়ে পালিয়ে যায়।
এদিকে গতকাল রাত ঘাতক ছেলে রেদোয়ান কে আটক করে পুলিশ। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার এসব তথ্য রেদোয়ান জানিয়েছেন বলে জানিয়েছেন এসপি শরিফুল হক।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসপি শরিফুল হক আরো জানান গত ৩০ আগষ্ট নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ সহ সভাপতি আরিফ হত্যার বিষয়টি হত্যা হয়নি আরিফ। তিনি জানান আরিফ মাদকাসক্ত ছিলেন রাতে তার নিজ বাসার তিন তলার ছাদ থেকে পড়ে মৃত্যু ঘটে। এ বিষয়ে একটি ভিডিও তথ্য প্রদশর্ন করা হয় প্রেস ব্রিফিংয়ে।