প্রিন্ট এর তারিখঃ ফেব্রুয়ারী ৮, ২০২৬, ৫:১৯ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ অক্টোবর ২২, ২০২৫, ৬:২১ পি.এম
নামেই প্রথম শ্রেণির ফুলবাড়িয়া পৌরসভা নেই আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা

মোঃ হাবিব, ফুলবাড়িয়া (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি।।
প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হওয়া সত্তেও পৌর শহরের প্রধান প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে ০৯টি ওয়ার্ডে সড়কের পিচ ঢালাইসহ ইটের খোয়া উঠে গিয়ে খানা-খন্দকে তৈরি হয়েছে মরণফাঁদ। শুধু তাই নয় সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা না থাকায় হুমকির মুখে পড়েছে শহরের পরিবেশ। এছাড়াও ড্রেনেজ ব্যবস্থা ভালো না হওয়ায় বর্ষাকালে সামান্য বৃষ্টিতেই সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। গত ৫ আগস্ট পৌর মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আলহাজ্ব গোলাম কিবরিয়া আত্মগোপনে চলে যাওয়ার পর থেকে আরোও অচলাবাস্থার সৃষ্টি হয়। চলতি বর্ষা মৌসুমে দেখা যায়, দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় ও যান চলাচলে রাস্তার পিচের ঢালাই ও ইট উঠে গিয়ে ছোট-বড় অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। একটু বৃষ্টিতেই গর্তগুলোতে পানি জমে থাকে। গাড়ি নিয়ে চলাচলের সময় এসব গর্তের কারণে দুর্ঘটনার কবলে পড়ছেন অনেকে। চলাচলকারীদের জন্যও রাস্তাগুলো দুর্ভোগের অন্যতম কারণ হয়ে দাড়িয়েছে। এছাড়া পানি নিষ্কাশনের জন্য ভালো ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় বিভিন্ন ওয়ার্ডের সড়কে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এতে করে পানি বাসাবাড়িতেও ঢুুকে যায় বলে অভিযোগ বাসিন্দাদের। স্থানীয়রা বলছেন, দুর্নীতি আর অনিয়মের কারণে দীর্ঘ ১০-১৫ বছর ধরে পৌরসভার রাস্তাঘাটের অবস্থা ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার কোনো উন্নয়ন হয়নি। এমন অপরিচ্ছন্ন ও নোংরা পরিবেশে বসবাসে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে তাদের। এবিষয়ে পৌর কর্তৃপক্ষকে অবগত করলেও কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তারা। উপজেলার ৬ লাখ মানুষের চিকিৎসা সেবার একমাত্র ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালটির আড়াইশ মিটার সড়ক বছরের পর বছর সংস্কার না করায় রোগীদের দুর্ভোগের শেষ নেই। ইট সুরকি উঠে গেছে অনেক আগেই। সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্তের, সড়কটি মেরামতের জন্য এলজিইডি ও পৌরসভার মাঝে ঠেলাঠেলি। আসলে হাসপাতালের আড়াইশ মিটার সড়ক কার? ফুলবাড়ীয়া পৌরসভা ও এলজিইডি মেরামত করে দেওয়ার কথা বছরের পর বছর ধরে বলছে। কিন্তু এ নিয়ে কর্তৃপক্ষের কারো মাথা ব্যথ্যা নেই। সড়ক দিয়ে রোগী হাসপাতালে নিয়ে গেলে মনে হয় কত দীর্ঘপথ। এছাড়াও যাতায়াতে প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা হতদরিদ্র অসংখ্য মানুষকে। এই পৌরসভাটি আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে প্রায় ১৬ বর্গকিলোমিটার এলাকা নিয়ে ২০০১ সালের মে মাসে ‘গ’ শ্রেণির পৌরসভা হিসেবে যাত্রা শুরু করেছিল ফুলবাড়িয়া পৌরসভা। ১০ বছরের মাথায় গিয়ে তা ‘খ’ শ্রেণিতে উন্নীত হয়। বাংলাদেশ সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ, পৌর-২ শাখার ১৪ মে, ২০২৩ তারিখে ১৭/৩৯৪ প্রজ্ঞাপন মূলে ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া পৌরসভাকে “খ” শ্রেণি হতে “ক” শ্রেণির পৌরসভায় উন্নীত করা হয়েছে।
২০২৩ সালে আওয়ামী সরকারের আমলে এটি প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হিসেবে ঘোষিত হলেও বর্জ্য অপসারণের নির্ধারিত কোনো জায়গার ব্যবস্থাপনা করতে পারেনি পৌর কর্তৃপক্ষ। প্রথম শ্রেণির একটি পৌরসভা থেকে ময়লা ফেলানোর একটা নির্ধারিত জায়গা না থাকায় সাবেক মেয়র আলহাজ্ব গোলাম কিবরিয়াকে দায়ী করছেন পৌর বাসিন্দারা।
পৌর পৌরসভা ৫নং ওয়ার্ড চান্দের বাজার থেকে ৫০০ গজ দূরে খাস জমি বলে অনেকটা ক্ষমতার অপব্যবহার করে পৌর মেয়রের সহযোগীতায় এলাকাবাসীর বাধা সত্বেও জোরপূর্বক ২০২৩ সালে পৌর সভার ময়লা ফেলানোর জন্য গর্ত করেন। এসময় গোলাম কিবরিয়া বলেন এটা সাময়িকের জন্য করা হচ্ছে। বর্তমানে এখানে ময়লা ফেলানো হচ্ছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ ময়লা ভর্তি ভ্যান গাড়ি গুলো থেকে নির্দিষ্ট জায়গায় নিয়ে যাওয়ার আগেই রাস্তায় পরে থাকে । প্রতিষ্ঠার দুই যুগ অতিক্রম করলেও এখনও নির্মিত হয়নি কোনো নির্ধারিত ডাম্পিং স্টেশন। ফলে প্রতিদিনের ঘরোয়া ও বাণিজ্যিক বর্জ্য ফেলা হচ্ছে খোলা জায়গা ও রাস্তার পাশে। এসব জায়গা থেকে ছড়াচ্ছে তীব্র দুর্গন্ধ, বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি। তাছাড়া এসব উন্মুক্তস্থানে স্তুপ করে রাখা বর্জ্য আগুনে পোড়ানোর কারনে সৃস্ট ধোয়া পৌরবাসীর জন্য হয়ে উঠেছে চরম দুর্ভোগের কারন।
পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. দেলোয়ার বলেন, আখালিয়া নদীর সাথে সংযুক্ত খালে ময়লা আবর্জনার স্তূপ রাখা থাকে । ফলে দুর্গন্ধে মানুষের অসুবিধার পাশাপাশি পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে। নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা ফেলার ব্যবস্থা থাকলে পরিবেশ ও নদীকে ক্ষতির হাত থেকে সুরক্ষিত রাখা সম্ভব হতো। পৌরসভা প্রথম শ্রেণীর হলেও নেই বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কোন ব্যবস্থা। বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার অনুরোধ জানালেও কোন সমাধান হয়নি।
এলাকাবাসীর দাবি, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্লান্ট নির্মাণের মাধ্যমে পৌরসভার ময়লা আবর্জনা রিসাইক্লিং করে পরিবেশ সম্মত স্থায়ী ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণ। নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত নাগরিকদের এ দাবি পূরণে দ্রুত উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।
এ ব্যাপারে পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ হারুন অর রশীদ বলেন, ময়লার ডাম্পিং স্টেশন নির্দিষ্ট কোন স্থান আমাদের নেই। তবে চান্দের বাজার নদীর ধারে একটি স্থানে সাময়িক ভাবে ব্যর্জ ফেলানো হচ্ছে। আমরা ময়লার দুর্ভোগের কথা পৌর প্রশাসক ও সহকারী কমিশন (ভূমি) শেখ তাকী তাজওয়ার কে জানিয়েছি, যেন পৌরসভার ভিতরে বা বাহিরে কোন খাস জমিতে একটা ডাম্পিং স্টেশন ব্যবস্থা করে দেন।
Copyright © 2026 বাংলার টিভি লাইভ. All rights reserved.