প্রিন্ট এর তারিখঃ ফেব্রুয়ারী ৭, ২০২৬, ১০:০৪ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ ডিসেম্বর ৩, ২০২৫, ১১:১৪ পি.এম
রাজশাহীর দিঘাপতিয়ার রাজবাড়ি ভাঙার কাজ বন্ধ করল প্রশাসন
সিরাজুল ইসলাম রনি, রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি।।
সিপাইপাড়া এলাকায় অবস্থিত দিঘাপতিয়ার রাজবংশের রাজার বাড়ি ভাঙার কাজ জেলা প্রশাসনের নির্দেশে বন্ধ করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে বোয়ালিয়া থানা ভূমি কার্যালয়ের কর্মীরা গিয়ে ভাঙার কাজ থামিয়ে দেন।
বাড়িটির মালিক ছিলেন রাজার ছেলে সন্দীপ কুমার রায়। যদিও পাশাপাশি পেছনের দোতলা দুটি বাড়ি প্রায় সম্পূর্ণ ভেঙে ফেলা হয়েছে, মেঝের নিচে থাকা সুড়ঙ্গের ইটগুলো এখনও অপরিবর্তিত রয়েছে।
হেরিটেজ রাজশাহীর সভাপতি মাহবুব সিদ্দিকী বাড়িটি পরিদর্শন করে বলেন, “বাড়িটির বয়স আনুমানিক ১২০ বছর। যা হওয়ার তা হয়ে গেছে। এখানে থাকা নাগলিঙ্গমের গাছটি যেন কাটা না হয়, এটি খুবই বিরল। প্রশাসনের কর্মকর্তারা হয়তো এখানে আসেননি, নিলাম দেন। এলে হয়তো এর প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্ব বুঝতে পারতেন।”
তিনি আরও জানান, বাড়ির নিচে সুড়ঙ্গের মতো স্থাপনা মূলত প্রাচীন নির্মাণশৈলীর অংশ, বাতাস চলাচলের জন্য ব্যবহার করা হতো। তবে কলেজশিক্ষক আকতার বানুর মতে, পেছনের দোতলা বাড়ি থেকে সামনের একতলা বাড়ির সঙ্গে সংযুক্ত হওয়ায় নিরাপত্তার কারণে এটি করা হতে পারে।
রাজপরিবার চলে যাওয়ার পর বাড়িটি দীর্ঘ সময় পরিত্যক্ত ছিল। স্বাধীনতার পর এটি ইজারা দেওয়া হয় ভাষাসৈনিক মনোয়ারা রহমানের নামে, যিনি এখানে মহিলা কুটির শিল্প প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে প্রায় ১০ হাজার নারীর কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছিলেন। মনোয়ারা রহমান ২০০৯ সালে মৃত্যুবরণ করলে বাড়িটি আবারও পরিত্যক্ত হয়। সম্প্রতি বোয়ালিয়া থানা ভূমি কার্যালয় ইজারা বাতিল করে বাড়িটি নিলামে বিক্রি করে।
নিলামের ক্রেতা শ্রমিকদের মাধ্যমে দুই সপ্তাহ ধরে ভাঙার কাজ চলছিল। মঙ্গলবার এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশিত হলে সমালোচনার মুখে জেলা প্রশাসন কাজ বন্ধের নির্দেশ দেয়।
বোয়ালিয়া থানা ভূমি কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার (ভূমি) আরিফ হোসেন বলেন, “জেলা প্রশাসন আপাতত বাড়িটিকে যেভাবে আছে, সেভাবেই রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অফিস থেকে লোক পাঠিয়ে লালসালু টাঙিয়ে কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। দেয়ালের ভাঙা ইটগুলো নিলামের ক্রেতা সরিয়ে নেবেন; এরপর আর কোনো ইট তোলা যাবে না। কর্তৃপক্ষ সবকিছু যাচাই-বাছাই করে তারপর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।”
Copyright © 2026 বাংলার টিভি লাইভ. All rights reserved.