• বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০২:৫৬ অপরাহ্ন
Headline
মুরাদনগরে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ ও শীতকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ মুরাদনগরে গাছে ঝুলছিল যুবকের লাশ, পরিবারের দাবি হত্যা শহীদ জিয়ার দেশপ্রেমকে সম্মান জানিয়ে বিএনপিকে সমর্থন অবসরপ্রাপ্ত সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের রাজশাহীর আলো পত্রিকার বাৎসরিক বনভোজনে সৌহার্দ্যের উচ্ছ্বাস পারিবারিক বিরোধকে রাজনৈতিক হাতিয়ার বানানোর অপচেষ্টার অভিযোগে বিএনপি’র সংবাদ সম্মেলন মুরাদনগর সদরে ধানের শীষের পক্ষে কাজী শাহ আরফিনের গণসংযোগ মুরাদনগরে যৌথ বাহিনীর অভিযানে মাদকসহ দুইজন গ্রেফতার মুরাদনগর পরমতলায় বিএনপি নেতা রুহুল আমিন খোকনের নেতৃত্বে ধানের শীষের নির্বাচনী গণমিছিল অনুষ্ঠিত মুরাদনগরে কায়কোবাদের পক্ষে ধামঘর ইউনিয়ন মুগসাইর গ্রামে গণসংযোগ করেন কাজী শাহ আরফিন পাঁচ গ্রামের কৃষকদের পাশে দাঁড়ালেন কায়কোবাদ

১৭ বছরেও বদলি নয়, লালমনিরহাট রেলওয়েতে এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ

Reporter Name / ৫৪ Time View
Update : সোমবার, ৫ জানুয়ারী, ২০২৬

মোঃ আনিছুল ইসলাম রাজিব লালমনিরহাট প্রতিনিধি।। 
লালমনিরহাট রেলওয়ে ভবনে এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে একই পদে বহাল থেকে ক্ষমতার অপব্যবহার, নিয়োগ বাণিজ্য ও টিকিট কালোবাজারির অভিযোগ উঠেছে।
অভিযুক্ত কর্মকর্তার নাম ফারুকুল আলম মানিক, যিনি বাংলাদেশ রেলওয়ের সহকারী ট্রাফিক অফিসার (ATO) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
অভিযোগে বলা হয়, বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের সময় রাজনৈতিক প্রভাব ও স্থানীয় ক্ষমতার দাপটে তিনি প্রায় ১৭ বছর ধরে একই কর্মস্থলে বহাল রয়েছেন। এমনকি পদোন্নতি পাওয়ার পরও তাকে অন্যত্র বদলি করা হয়নি, যা রেলওয়ের প্রচলিত বিধিমালার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয় একাধিক রেল শ্রমিক ও কর্মচারীর অভিযোগ, ফারুকুল আলম মানিক নিয়োগ ও বদলি বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত। রেল শ্রমিক বাদশা আলম (৪০) সাংবাদিকদের বলেন, “একজন কর্মকর্তা কীভাবে প্রায় ১৭ বছর ধরে একই জায়গায় দায়িত্ব পালন করেন—তা জাতি জানতে চায়। তিনি স্থানীয় পরিচয় ও প্রভাব খাটিয়ে বদলি এড়িয়ে যাচ্ছেন।”
বাদশা আলম আরও অভিযোগ করেন, ফারুকুল আলম মানিক নিয়োগ বাণিজ্যের মাধ্যমে তার বাড়ির কাজের দুই ছেলেসহ একাধিক ব্যক্তিকে চাকরি দিয়েছেন। এছাড়া তার নাম ব্যবহার করে এক নারীকে পি-ম্যান পদে নিয়োগ দেখানো হলেও বাস্তবে ওই পদে কাজ করছেন তার বাবা দুলু মিয়া—এমন অভিযোগও উঠে এসেছে।
আরও অভিযোগ রয়েছে, প্রতি ঈদ মৌসুমে লালমনিরহাট রেলওয়ে স্টেশন থেকে লক্ষ লক্ষ টাকার টিকিট কালোবাজারি হয়ে থাকে, যার সঙ্গে এই কর্মকর্তার সম্পৃক্ততা রয়েছে। তবে সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে আগেই প্রমাণ লোপাট করায় গণমাধ্যমকর্মীরা সরাসরি প্রমাণ সংগ্রহ করতে পারেননি।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত কর্মকর্তা ফারুকুল আলম মানিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথমে স্থানীয় প্রভাব দেখানোর চেষ্টা করেন বলে সাংবাদিকদের অভিযোগ। পরে নিয়োগ সংক্রান্ত ডকুমেন্ট দেখালে তিনি চাকরি বাণিজ্যের বিষয়ে কথা স্বীকার করেন এবং একপর্যায়ে অফিসের পেছনের দরজা দিয়ে চলে যান।
এছাড়াও তার প্রভাব খাটিয়ে আন্তঃনগর এক্সপ্রেস ট্রেনে টিকিট ছাড়া লালমনিরহাট থেকে ঢাকায় যাতায়াতের অভিযোগও রয়েছে।
এ বিষয়ে ডিভিশনাল ট্রাফিক সুপারিনটেনডেন্ট (ডিটিএস) আব্দুল্লাহ আল মামুন সাংবাদিকদের বলেন, “বিষয়টি আমাদের জানানো হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
অন্যদিকে, রেলওয়ে বিভাগীয় ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) আবু হেনা মোস্তফা আলম বলেন, “অভিযোগের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বাংলাদেশ রেলওয়ের বিধি অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ ঘটনায় লালমনিরহাট রেলওয়েতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মহল।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category