সিরাজুল ইসলাম রনি, রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি।।
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান বিন হাদির হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে রাজশাহীতে তীব্র বিক্ষোভ করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ভারতীয় আধিপত্যবাদবিরোধী জুলাই-৩৬ মঞ্চ, এনসিপি , বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতাকর্মীরা সহ একাধিক ছাত্র ও স্থানীয় জনগণ ।
বৃহস্পতিবার রাতে সিঙ্গাপুর থেকে হাদির মৃত্যুর খবর দেশে পৌঁছানোর পরপরই বিক্ষোভ শুরু হয়। রাত সাড়ে ১১টার দিকে নগরীর সাহেববাজার জিরোপয়েন্টে বিক্ষোভকারীরা জড়ো হয়ে হাদির হত্যাকারীদের দ্রুত বিচারের দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। পরে সেখান থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়।
একই সময়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল থেকে মিছিল নিয়ে আসা শিক্ষার্থীরাও আন্দোলনে যোগ দেন। বিক্ষোভকারীরা মিছিল নিয়ে নগরীর কুমারপাড়ায় অবস্থিত রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে গিয়ে অবস্থান নেন। এ সময় তারা সড়কের ওপর আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন।
বিক্ষোভ চলাকালে আন্দোলনকারীরা ‘আওয়ামী লীগের আস্তানা, ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও’, ‘হাদি ভাই মরলো কেন, ইন্টেরিম জবাব দে’, ‘রুখে দাও জনগণ, ভারতীয় আগ্রাসন’সহ নানা স্লোগান দেন।
এরপর বিক্ষোভকারীরা পুনরায় মিছিল নিয়ে সাহেববাজার জিরোপয়েন্টে ফিরে গিয়ে প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা সমাবেশ করেন। সমাবেশে বক্তব্য দেন রাজশাহী মহানগর এনসিপির সভাপতি মোবাশ্বের আলী, সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমান, রাকসুর জিএস ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক সালাউদ্দিন আম্মারসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, ওসমান হাদির হত্যাকারীদের দেশে ফেরত এনে বিচার নিশ্চিত না করা পর্যন্ত ভারতের সঙ্গে সব ধরনের আপস মেনে নেওয়া হবে না। তারা দেশের মাটিতে ভারতীয় হাইকমিশনারের সব কার্যক্রম বন্ধ, ভারতীয় পণ্য বর্জন এবং সব ভারতীয় নাগরিকের ওয়ার্ক পারমিট বাতিল করে তাদের ভারতে ফেরত পাঠানোর দাবি জানান।
সমাবেশ শেষে বিক্ষোভকারীরা আবারও রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে গিয়ে জড়ো হন এবং ভাঙচুর শুরু করেন। রাত দেড়টার দিকে একটি এক্সভেটর এনে কার্যালয় ভাঙা শুরু হয়। পরে রাত আড়াইটার দিকে আরও একটি এক্সভেটর যোগ করা হয়। ভোর রাত ৪টার মধ্যে পুরো আওয়ামী লীগ কার্যালয়টি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
রাজশাহী মহানগর এনসিপির সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমান বলেন, “আমরা আওয়ামী লীগের কার্যালয় গুঁড়িয়ে দিয়েছি। সিটি করপোরেশনকে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে নিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি ওই স্থানে একটি গণসৌচাগার নির্মাণের দাবিও করপোরেশনের কাছে জানানো হবে।”