মোঃ হাবিব, ফুলবাড়িয়া (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি।।
এ সপ্তাহে বাড়িতে এসে মা সাবিয়া খাতুন বকুলের চোখের ছানি অপারেশন করতে গাজীপুরে নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিনের’ ‘সেই তুহিনের লাশ আসছে বাড়িতে, বলতেই কান্নায় ভেঙ্গে পড়ছে অসুস্থা বৃদ্ধা মা বকুল ও বাবা হাসান জামিল। গত দুই দিন আগে বাবার ঔষুধ ও বাজার করার জন্য টাকা পাঠিয়েছিল। গ্রামের মানুষ বিভিন্ন ভাবে সান্তনা দিচ্ছে এই বৃদ্ধ দম্পত্তিদের। কারও সান্তনা মেনে নিতে পারছেন না। কান্না করতে করতে বারংবার মুচ্ছা যাচ্ছে বাবা, জ্ঞান হারিয়ে ফেলছে মা।সাংবাদিক তুহিনের হত্যার ঘটনায় নিজ গ্রামে শোকের ছায়া নেমেছে। আত্মীয় স্বজনসহ প্রতিবেশিরা কান্নায় গ্রামের বাতাশ ভারি হয়ে আছে।বৃহস্পতিবার রাতে গাজীপুরে চান্দনা এলাকায় সন্ত্রাসীরা নির্মমভাবে কুপিয়ে ও জবাই করে হত্যা করেন। এখন পর্যন্ত হত্যাকান্ডে জড়িত কেউ গ্রেপ্তার না হওয়ায় চরম ক্ষুভ প্রকাশ করেন তুহিনের পরিবার।ফুলবাড়িয়া উপজেলার ফুলবাড়িয়া ভাটিপাড়া গ্রামের হাসান জামিলে ছেলে আসাদুজ্জামান তুহিন। তুহিনে দুই ছেলে বড় ছেলেতৌকি (৭) ছোট ছেলে ফাহিম(৩) পাঁচ ভাই, দুই বোনের মধ্যে সবার ছোট তুহিন। বাদ মাগরিব ফুলবাড়িয়া ভাটি পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে তুহিনেন জানাযা নামাজ শেষে নিজ গ্রামে বাড়ির পূর্ব পাশে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। পারিবারিক সূত্রে জানাগেছে,স্থানীয় আলহেরা একাডেমি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০০২ সালে মাধ্যমিক পাশ করে, সিলেট কোম্পানিগঞ্জের এম. সাইফুর রহমান কলেজ থেকে ২০০৪ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করে গাজীপুর চৌরাস্তা এলাকায় প্রায় একযুগ ধরে বসবাস শুরু করে। সাংবাদিকতার পাশাপাশি একটি ক্লিনিকের ব্যবসা পরিচালনা করেন। নিজ গ্রামে অসহায় মানুষের চিকিৎার ব্যবস্থা করতেন। মানবিক মানুষ হিসেবে গ্রামে পরিচিত। গ্রামের বেশ কয়জন যুবককে ঢাকাসহ গাজীপুরের বিভিন্ন কোম্পানিতে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন।তুহিন হত্যাকান্ডের ঘটনায় গ্রামের সবাই হতবাক। হত্যার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করছেন।তুহিনের বড় বোন রত্মা বেগম বলেন, ‘আমার ভাইকে নৃশংসভাবে হত্যা করলো, হত্যা না করে একটি হাত, একটি পা ভেঙ্গে দিত, ‘পঙ্গু করে দিলেও ভাই বেঁচে থাকতো’ আমার ভাই পুত দুইজন এতিম হয়েগেলে, স্ত্রী বিধবা। এদের সংসার এখন কিভাবে চলবে? সন্তানদের কে মানুষ করবে? হত্যাকারীদের এখনো গ্রেপ্তার করা হয়নি, আইনশৃঙ্খলাবাহিনী কি করছে। হত্যাকারীদেন ফাঁসি চাই।
বৃদ্ধ বাবা হাসান জামিল বলেন, আমার ঔষুধ কিনতে দুইদিন আগে টাকা পাঠিয়েছে, এ সপ্তাহে বাড়ি এসে মাযের চোখের ছানি অপারেশন করতে গাজীপুরে নিয়ে যাবার কথা ছিল, এখন সেই ছেলে লাশ হয়ে বাড়ি আসতেছে। আমার সহজ সরল ছেলেটাকে তাঁর মা বার বার বলেছে সাংবাদিকতা ছেড়ে দিতে, কিন্তু ছাড়েনি। সেই সাংবাদিকতা করতে গিয়ে আমার ছেলে হত্যার শিকার হলো।