• মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬, ০৯:১৭ পূর্বাহ্ন

দুঃখের সাগরে ভাসছে তানজিলা পরিবারে ৪ জন অন্ধ

Reporter Name / ১৯৪ Time View
Update : শনিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

 

আলী হোসেন, ভোলা প্রতিনিধি।।

বাবার দুঃখের সংসার থেকে ছোট বয়সে বিবাহ হয় তানজিলার। অন্ধ স্বামীর সংসারে এসে কিছুটা দিন ভালোই ছিলাম। তবে এখন তিন সন্তান ও স্বামী সহ ৪ অন্ধ নিয়ে দুঃখের সাগরে ভাসছি। এমন কান্নায় যেন আকাশ ভারি হবার মতোই।
জম্মের পরথেকেই তাদের ৪ জনের কেউ সুন্দর মায়াময় এ পৃথিবীর সৌন্দর্য দেখতে পাননা।উপবেভোগ করতে পারছেন চন্দ্র বা সুর্যের আলো। নয়নাবিরাম এ পৃথিবীর সবই যেন তাদের কাছে আঁধার।
নির্নয় বা পার্থক্য করতে পারেন না সাদা কিংবা কালো কোন রং বেরংয়ের। কেননা তাদের পরিবারের ৬ সদস্যদের ৪ জনই জম্ম থেকে অন্ধ।

অসহায় এই পরিবারের কর্তা ব্যাক্তি কামাল হোসেন, কামাল হোসেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যাক্তি । কামালের স্ত্রী তানজিলার সহযোগিতা নিয়ে কামাল হাটে বাজারে, পথে প্রান্তরে দাড়িয়ে কোরান তিলাওয়াত ও ইসলামী সংগীত শুনিয়ে সামান্য আয় করতেন।
কামাল ও তানজিলা দম্পতিদের বসবাস মেঘনার মোহনা নদী ইলিশার তীরে। ভাঙ্গন কবলিত ভোলার সদর উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের কন্দ্রকপুর গ্রামে সরকারি জমিতে থাকেন কামাল হোসেন মাঝি।

কামালের সামান্য আয়েই চলতো ৪ অন্ধের জীবন জীবিকা।
হঠাৎ কামালের আয়ের উপর নেমে আসলো এক অন্ধকারের থাবা।
কামালের আয়ের থেকে সঞ্চয় করে করে একটি গরু কিনে পালতেন তানজিলা। সেই ১টি গরু থেকে যখন ২ টি গরু হলো তখন তাদের দুটি গরুই একত্রে নিয়ে গেল চোরের দল।
গরু চুরির পরে মানসিক ভারসাম্যতা হাড়ান কামাল। বন্ধ হয়ে যায় পরিবারটির আয়ের উৎস। সেই থেকে মানবেতর জীবনযাপন করছেন পরিবারটি।
এখন ৪ সন্তান নিয়ে অন্ধকারে নিমজ্জিত হতে বসেছে তানজিলার সংসার।
নদীর তীরে তানজিলার ছোট বাড়িটি সকালে সুকনো থাকলেও বিকেলে তলিয়ে যায় জোয়ারে পানিতে । কখনো কখনো অতি জোয়ার ও জলোচ্ছাসে তানজিলার ঘরেও থাকে হাটু পরিমান পানি।

অন্ধ কামালের স্ত্রী বলেন আগে স্বামী তিলোত্তয়াত, গজল কইয়া টাহা তুলতো,গরু চোরে নেওয়ার পর হইতে তার মাথায় কাজ করে না। এহন আমাদের কষ্ট দেখবো কে? অন্ধ স্বামী কামরুন, বাশার ও শষি সহ ৪ জন অন্ধ নিয়ে খুব কষ্টে দিন কাটে। বুষ্টি অইলে ঘরে পানি পরে। অন্ধ ছেলেটাকে একজনে দান করা ছাগল বেইচা টিন লাগাইছি তাতেও বন্ধ হয় নাই পানি পরা। ঘরে চাউল নাই আমি কারো কাছে যাইতেও পারি না, ঘরের চারদিকে পানি ওদের রেখে গেলে বাহিরে পানিতে যদি নেমে পানিতে ডুইবা যায় সেই ডরে যাইতে পারি না।
কাইল ওদের কে থুইয়া আমির জমাদরের ছেলে সোহাগের কাছে গেছিলাম, সোহাগ চাউল, ডাইল, তেল কিননা দিছে।
এহন আমার বড় চিন্তা এতদিন সরকারের জমিতে থাকছি এটাও নদী ধরছে ভাইঙ্গা যায় এহন আমরা কোই যামু উপায় নাই।

কামাল বলেন জীবনে ইচ্ছে ছিলো কোর আনের হাফেজ হবো, নদী ভাঙ্গা বাবার অভাবে হলো না হাফেজ হওয়া, হুজুরের কাছে মুখস্থ করা ১০ পাড়া কুরআন শুনিয়ে গজল শুনালে অন্ধ মানুষ হিসেবে সবাই ১৯/২০ টাকা দিতো। এহন তাও পারি না। তানজিলা নিয়ে যাইতে পারে না, সব দিকে পানি, ঘরের কাছে গাং। আমার একটা ঘর হইলে ভালো হইতো।

ভোলা সদর উপজেলা সমাজ সেবা অফিসার আরিফুজ জ্জামান বলেছেন অসহায় পরিবারের খোঁজ নিয়ে তাদের সরকারি সহায়তা প্রদানের ব্যবস্থা করা হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category