• শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:২৯ অপরাহ্ন
Headline
মুরাদনগরে ইয়াবাসহ যুবক গ্রেপ্তার মাদরাসায় বলাৎকার বন্ধে সরকার কঠোর অবস্থানে: ধর্মমন্ত্রী মুরাদনগরে ৪৯ পিস ইয়াবাসহ ১১ মামলার আসামি গ্রেপ্তার মুরাদনগরে শারদীয় দুর্গোৎসব: বিভিন্ন পূজা মণ্ডপ পরিদর্শনে ওসি মুরাদনগরে সংগঠন বিরোধী কর্মকান্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে দুই যুবদল নেতাকে শোকজ সোনারগাঁয়ে মাদক, ডাকাতিসহ বিশেষ অভিযানে ১৯ জন গ্রেপ্তার সোনারগাঁয়ে ভাড়া বাসা থেকে গার্মেন্টস কর্মীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার সোনারগাঁয়ে ১০১ পিস ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার মুরাদনগরে পূজা মণ্ডপ পরিদর্শনে বিএনপি নেতা সৈয়দ মোস্তাক আহমেদ সোনারগাঁয়ে দুর্গাপুজায় সপরিবারে ভারতীয় উপ হাইকমিশনার

মুরাদনগরে পূর্ব শত্রুতার জেরে পাঁচ সন্তানের জননীকে পিটিয়ে হত্যা

Reporter Name / ২১৩ Time View
Update : শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২৬

 

নিজস্ব প্রতিনিধি।।

কুমিল্লার মুরাদনগরে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে পাঁচ সন্তানের জননীকে পিটিয়ে হত্যা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানাধীন পূর্বধৈর পশ্চিম ইউনিয়নের মহেশপুর গ্রামে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। হত্যাকাণ্ডের শিকার পাঁচ সন্তানের জননী রাশিদা আক্তার (৩৬) মহেশপুর গ্রামের দেলোয়ার হোসেনের স্ত্রী।
নিহতের পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত মহিলার স্বামী দেলোয়ার হোসেন একই গ্রামের মাওলা হত্যা মামলার আসামি হওয়ায় আসামিগন দীর্ঘদিন ধরে এলাকা ছাড়া। রাশিদা বেগম বৃহস্পতিবার সকালে তার নিজ গৃহে পালিত সাতটি গরু-বাছুর বাড়ি থেকে অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার সময় মহেশপুর গ্রামের রহিম মেম্বারের লোকজন রাশিদা আক্তারের ওপর হামলা চালায়। এ সময় রাশিদা আক্তার এর দুই মেয়ে তাদের মাকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে তাদেরকেও পিটিয়ে আহত করে। পরে বাঙ্গরা বাজার থানার পুলিশ খবর পেয়ে রাশিদা আক্তার ও তার দুই মেয়েকে উদ্ধার করে মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক গুরুতর আহত রাশিদা আক্তারের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় প্রেরণ করেন। রাশিদা আক্তারকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার পথে মুরাদনগর উপজেলার বাখরাবাদ এলাকায় মৃত্যুবরণ করে।
এ বিষয়ে নিহত রাশিদা আক্তারের মেয়ে আহত সামিয়া আক্তার সাংবাদিকদের বলেন, আমার মা বাড়ি থেকে গরুগুলো নিয়ে যাওয়ার সময় দৌলতপুর গ্রাম থেকে রহিম মেম্বারের নেতৃত্বে তার লোকজন আমার মাকে ধরে জোরপূর্বক আমাদের গ্রামে নিয়ে আসে। খবর পেয়ে আমি ও আমার বোন আমার মাকে উদ্ধার করতে দৌড়ে সেখানে ছুটে যাই। সেখানে গিয়ে দেখি আমার মা অজ্ঞান হয়ে পড়ে আছে আর তারা আমার মাকে পিটাচ্ছে। আমি আমার মায়ের বুকের উপর পরে তাদের কাছে আমার মায়ের প্রাণ ভিক্ষা চাইলেও তারা আমার মাকে না দিয়ে উল্টো আমাকে মারতে থাকে। আমার মাকে গাড়িতে উঠাতে চাইলে তারা গাড়িতে উঠাতে না দিয়ে উল্টো আমাকে বলে তোর মাকে শেষ করে দিছি, তুই আর মা ডাকতে পারবি না, এই বলে আমার বোনকেও মারতে থাকে। তখন আমি উপায়ান্তর না দেখে দৌড়ে বাঙ্গরা বাজার থানায় গিয়ে পুলিশকে জানালে তারা আমার মাকে উদ্ধার করে। পরে আমারা মাকে মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে যেতে বলে। এসময় সে কান্না জড়িত কন্ঠে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে হত্যাকারীদের ফাঁসি দাবি করেন।
নিহতের বড় বোন নাসিমা বলেন, আমার বোনের দুধের শিশুসহ পাঁচটি সন্তান। তার আর্থিক অবস্থা ভালো না থাকা আমরা সহযোগিতা করে আসছি। এখন এই দুধের শিশুসহ পাঁচটি সন্তানের কি অবস্থা হবে! এই সন্তানগুলোকে যারা এতিম করেছে আমি তাদের দ্রুত ফাঁসির দাবি জানাই।
ঘটনার পর থেকে রহিম মেম্বার এলাকা থেকে পালিয়ে যায়। এ বিষয়ে তার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে মুঠোফোনটি বন্ধ থাকায় যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে বাঙ্গরা বাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সফিউল আলম জানান, পূর্ব শত্রুতার জেরে এ ঘটনা ঘটেছে। এখনো পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category