• বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬, ০৩:৪৮ অপরাহ্ন

শীতে মুরাদনগর হাসপাতালে বেড়েছে ঠান্ডাজনিত রোগীর ভীর

Reporter Name / ২৩২ Time View
Update : সোমবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০২৪

মো. রাসেল মিয়া, মুরাদনগর (কুমিল্লা)।।

কুমিল্লার মুরাদনগরে গত কয়েকদিন ধরে বেড়েছে শীতের প্রকোপ। শীতের তীব্রতায় নাজেহাল হয়ে পড়েছে মানুষ। দেখা দিয়েছে ঠান্ডাজনিত রোগের প্রাদুর্ভাব। এসবের মধ্যে অন্যতম জ্বর, ঠান্ডা, নিউমোনিয়া, অ্যাজমা, শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়া ও চর্মরোগ। এতে বেশির ভাগ আক্রান্ত হচ্ছেন শিশুরা।  শিশুরা ঠান্ডাজনিত রোগে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হলেও ছাড় পাচ্ছেন না অন্য বিভিন্ন বয়সের মানুষেরাও।
সরেজমিনে মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, ঠান্ডাজনিত অসুস্থতায় অনেক শিশুকে চিকিৎসা দিতে হাসপাতালে নিয়ে এসেছেন অভিভাবকরা। সকাল থেকেই হাসপাতালের জরুরি বিভাগ ও বহির্বিভাগের সামনে দীর্ঘ লাইন। চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে শিশুদের কোলে নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন অভিভাবকরা। অপরদিকে শিশু ওয়ার্ডে রোগী পরিপূর্ণ। কেউ শিশুকে ওষুধ খাওয়াচ্ছেন, কেউবা কোলে নিয়ে বসে আছেন। এমনি দৃশ্য দেখা যায় হাসপাতালে।
কোম্পানিগঞ্জ নগরপাড় এলাকা থেকে ১৫ মাস বয়সী শিশু সন্তান নাজিফাকে নিয়ে হাসপাতালে এসেছেন মা আছমা আক্তার। তার সাথে কথা হলে তিনি জানান, শীতের শুরু থেকেই নাজিফার শ্বাসকষ্ট, জ্বর ও কাশি ছিল। তিনি সন্তানকে নিয়ে ৪দিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি আছেন।
শিশু বাচ্চাকে কোলে নিয়ে হাসপাতালের বেডে বসে আছেন রহিমপুর গ্রামের রতœা আক্তার। তিনি জানান, বাচ্চার পাতলা পায়খানা হওয়ার পর দুই দিন আগে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। ডাক্তার শিশুটিকে ভর্তি দেন। এখন অনেকটা ভালো আছে।
পাশের বেডেই শিশু সন্তান তাবাসসুমকে ওষুধ খাওয়াচ্ছেন মুরাদনগর সদরের আকলিমা আক্তার। তার সাথেও কথা হয় এই প্রতিবেদকের। তিনি বলেন, হাসপাতালে আনার পর ডাক্তার বলেছেন নিউমোনিয়া হয়েছে। সেজন্য ভর্তি করেছি। ডাক্তার নিয়মিত চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছেন।
হাসপাতালে কথা হয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুন এর সাথে। তিনি বলেন, মুরাদনগরে শীতের প্রকোপ বৃদ্ধির কারণে হাসপাতালে শীতকালীন রোগে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা এখন বেশি। হাসপাতালের বহির্বিভাগ ও জরুরি বিভাগে আসা শিশুদের বেশির ভাগই জ্বর, ঠান্ডা, কাশি, নিউমোনিয়া এবং কোল্ড ডায়রিয়ায় ভোগছে। জরুরি বিভাগে আসা রোগীদের পরিস্থিতি বুঝে ভর্তি এবং বহির্বিভাগের রোগীদের চিকিৎসা দিয়ে বাড়িতে পাঠানো হচ্ছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এনামুল হক বলেন, শীতজনিত রোগে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন বয়স্ক ও শিশুরা। এসব রোগ প্রতিরোধে শিশুদের খুব সাবধানে রাখতে হবে। যতটা পারা যায় সব বয়সের মানুষকে ঘরে থাকতে হবে। ঘরের বাইরে গেলে যথাযথ পোশাক পরতে হবে। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিহিস্টামিন ও অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ানো যাবে না। শ্বাসকষ্ট হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা করতে হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category