মোঃ মোরসালিন, পূর্বধলা (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি।।
বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির দুর্নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু হয়েছিল ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে। এক বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো মেলেনি কোনো পূর্ণাঙ্গ সমাধান। এতে ক্ষোভে সারাদেশের মতো নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলাতেও পল্লী বিদ্যুৎ কর্মকর্তারা গণছুটিতে চলে গেছেন। ফলে অচলাবস্থায় পড়েছে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা, ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ।
কর্মচারীদের অভিযোগ—গ্রামে নিম্নমানের বৈদ্যুতিক মিটার সরবরাহ,বিদ্যুৎ ব্যবহার না করেও বিল আদায়,নিম্নমানের তার ব্যবহার করে অতিরিক্ত বিল,
অল্প ক্ষমতার লাইন ও নিন্মমানের যন্ত্রপাতি কেনাবেচা।
এই আন্দোলনে একাত্মতা জানিয়েছিলেন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দও। তখন সরকার আরইবি সংস্কার ও পৃথক বোর্ড গঠনের প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে তা কার্যকর হয়নি। এ অবস্থায় গত ২১ মে থেকে ৫ জুন পর্যন্ত পাঁচ দিনের কর্মসূচি পালন করে কর্মচারীরা আল্টিমেটাম দিয়েছিলেন। কিন্তু সমাধানের বদলে সমিতি উল্টো কর্মচারীদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কাজে যোগদানের নির্দেশ দেয়। অনথায় রাষ্ট্রদ্রোহী মামলা ও ভয়ভীতির অভিযোগও ওঠে।
বর্তমানে পূর্বধলা জোনাল অফিস ও শ্যামগঞ্জ সাব-জোনাল অফিসে প্রায় ১২০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী আছেন। কিন্তু গণছুটিতে অধিকাংশ কর্মকর্তা কর্মস্থলে অনুপস্থিত। শ্যামগঞ্জ সাব-জোনালের ওএনএম গোলাম কবির জানান, “বেশিরভাগ কর্মকর্তা ছুটিতে থাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বজায় রাখতে আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।”
ফলে উপজেলায় ঘন ঘন লোডশেডিং দেখা দিচ্ছে। ব্যবসা-বাণিজ্য ও কলকারখানা ক্ষতির মুখে পড়েছে, বিপর্যস্ত হচ্ছে জনজীবন। সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা—দ্রুত সমাধান না হলে পূর্বধলা সহ আশপাশের এলাকায় ভয়াবহ ব্ল্যাকআউট নেমে আসতে পারে।