পূর্বধলা (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি।।
দুরারোগ্য সেপটিক পচনে আক্রান্ত নেত্রকোণার পূর্বধলা উপজেলার আগিয়া ইউনিয়নের আন্দা গ্রামের অসহায় শহীদ মিয়ার (৪২) পাশে দাঁড়িয়েছে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন। সোমবার (১৩ অক্টোবর) বিকেলে তাঁর পরিবারের হাতে ৩৫ হাজার টাকা ও খাদ্যসামগ্রী তুলে দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আনিসুর রহমান খান।
এর মধ্যে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৩০ হাজার টাকা এবং উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৫ হাজার টাকা সহায়তা প্রদান করা হয়। পাশাপাশি খাদ্যসামগ্রীও দেওয়া হয়েছে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, শহীদ মিয়া ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তিন মাস ধরে সেপটিক পচনে আক্রান্ত হয়ে তিনি বিছানায় পড়ে আছেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকায় নেওয়া হলেও অর্থের অভাবে ব্যয়ভার বহন করতে না পারায় তাঁকে আবার গ্রামে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, তাঁর চিকিৎসার জন্য অন্তত ৩ থেকে ৪ লাখ টাকার প্রয়োজন।
স্থানীয় অনলাইন পোর্টাল পূর্বধলা দর্পণ-এ খবরটি প্রকাশিত হলে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মাহমুদ জামানের নজরে আসে। এরপর তিনি ইউএনওকে পরিবারটির সহায়তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন।
ইউএনও মো. আনিসুর রহমান খান বলেন,
“সংবাদটি জেলা প্রশাসকের নজরে আসার পরপরই তিনি আমাকে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিবারটির খোঁজ নিতে বলেন। তাঁর নির্দেশে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৩০ হাজার ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৫ হাজার টাকা সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, জেলা প্রশাসক শহীদ মিয়ার পরিবারের ভাঙা ঘর মেরামত ও তাঁদের জন্য টেকসই কর্মসংস্থানের ব্যবস্থার নির্দেশও দিয়েছেন। ইতোমধ্যে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ও সমাজসেবা কর্মকর্তাকে বিষয়টি বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
শহীদ মিয়ার পরিবারের সদস্যরা জানান, তাঁর পায়ের পচন ক্রমশ বাড়ছে এবং দুর্গন্ধের কারণে পাশে যাওয়াও কষ্টকর হয়ে উঠেছে। প্রশাসনের এই সহায়তায় তারা কিছুটা স্বস্তি পেলেও উন্নত চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে এখনও হিমশিম খাচ্ছেন। তাঁরা সমাজের বিত্তবান ব্যক্তিদের এগিয়ে এসে সহায়তার হাত বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।