নিজস্ব প্রতিনিধি।।
আমার ছেলে হাসপাতালের আইসিউতে যতটুকু প্রাণশক্তি ছিলো সেটুকু দিয়ে জিকির করেছে। আমি বেডের কাছে গিয়ে শুনতাম আমার ছেলে কি করছে। তার প্রতিটি নিঃশ্বাসে আমি জিকিরের শব্দ শুনেছি। তখন আমি আল্লার কাছে বলেছি, আল্লাহ যদি আমার ছেলের হায়াত না থাকে তাকে তুমি ঈমানের সাথে নিয়ে যাও। ত্বকি জিকির করতে করতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে। আমার ছেলের জন্য সবাই দোয়া করবেন। আমি জানি আমার ছেলে কেমন ছিলো। ইসলামের নিয়ম অনুযায়ী জীবন যাপন করেছে। সে যখন মারা যায়, আমার কষ্ট হয়েছে, তবে আমি জানি আমার রবের সন্তুষ্ঠি কি। আমি দুই রাকাত নফল নামাজ পড়ে দোয়া করেছি। আমি তাকে সাদা কাপড়ে মুড়িয়ে বাড়ি এনেছি, তার লাশ আমি কাঁধে নিয়েছি, তাকে জান্নাতে পৌঁছে দেবো বলে।
মঙ্গলবার রাতে বিশ্বজয়ী হাফেজ সাইফুর রহমান ত্বকীর জানাযার নামাজের আগে বাবা বদিউল আলম উপস্থিত মানুষের সামনে এসব কথা বলেন। এর আগে যখন ত্বকির মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্সটি মুরাদনগর উপজেলার ডালপা গ্রামে পৌঁছায় তখন এক হৃদয়বিধারক দৃশ্যের অবতরনা হয়। রাতের বেলায়ও জানাযার নামাজে অংশগ্রহণ করতে দূরদুরান্ত থেকে ছুটে আসে মানুষজন।
মঙ্গলবার রাত দশটায় মুরাদনগর উপজেলার গ্রামের বাড়ি ডালপা নেদায়ে ইসলাম দাখিল মাদ্রাসা মাঠে জানাযার নামাজ শেষে উত্তরপাড়া পীরমুড়ি কবরস্থানে ত্বকীর মরদেহ দাফন করা হয়। এর আগে জানাযার নামাজে ত্বকির স্মৃতি রোমন্থন করেন ত্বকির শিক্ষক, ভাই ও স্থানীয়রা।
স্বজনরা জানান, সম্প্রতি ত্বকি ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। (মঙ্গলবার, ২৮ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর মুগদা হাসপাতালে ত্বকী শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
হাফেজ ত্বকী মারকাযুত তাহফিজ থেকে হিফজ সম্পন্ন করেছিলেন এবং এই প্রতিষ্ঠান থেকে একাধিকবার কোরআন প্রতিযোগীতায় বিজয়ী হয়েছিলেন। বর্তমানে তিনি নারায়ণগঞ্জের একটি মাদরাসায় কিতাব বিভাগে পড়াশোনা করছিলেন।
হাফেজ ত্বকী জর্ডান, কুয়েত ও বাহরাইনে কোরআন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হয়েছিলেন। এছাড়াও তিনি এনটিভিতে প্রচারিত কুরআনের আলো অনুষ্ঠানসহ দেশের বিভিন্ন কোরআন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে বিজয়ী হন।
কুমিল্লা মুরাদনগরের ডালপা গ্রামের ২০০০ সালে জন্মগ্রহণ করেন হাফেজ ত্বকী। বাবা মাওলানা বদিউল আলম পেশায় একজন মাদরাসা শিক্ষক। তার ৫ ছেলের মধ্যে ত্বকির সবার বড় ছিলো। তার এই ইন্তেকালে শোকে ভাসছে পরিবারটি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অনেকেই শোক প্রকাশ করছেন।