মো. রাসেল মিয়া , মুরাদনগর।।
প্রস্তাবিত ঢাকা–চট্টগ্রাম নতুন এলিভেটেড (উড়াল) রেললাইন প্রকল্পে কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার বাঁশকাইট এলাকায় রেলস্টেশন স্থাপনের দাবিতে এক বিশাল মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বাঁশকাইট ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া কলেজ প্রাঙ্গণে দক্ষিণ মুরাদনগর কল্যাণ সমিতি, ঢাকা-এর উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালিত হয়।
মানববন্ধনে এলাকার বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং সর্বস্তরের জনগণ একাত্মতা প্রকাশ করে অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, প্রস্তাবিত ঢাকা-কুমিল্লা উড়াল রেলপথ চালু হলে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের রেলপথের দূরত্ব প্রায় ৮০ কিলোমিটার কমে আসবে এবং যাতায়াতের সময় অন্তত দেড় থেকে দুই ঘণ্টা সাশ্রয় হবে। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, আশপাশের বিভিন্ন উপজেলায় স্টেশনের ব্যবস্থা রাখা হলেও ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মুরাদনগর অঞ্চলকে এর বাইরে রাখা হয়েছে।
বক্তারা জোর দিয়ে বলেন, আমরা সরকারের এই মহা-উন্নয়ন পরিকল্পনাকে সাধুবাদ জানাই, কোনো উন্নয়নের বিরোধিতা করছি না। তবে উন্নয়নের সুফল যেন মুরাদনগরের মানুষও সমানভাবে পায়, সেটিই আমাদের মূল প্রত্যাশা। বাঁশকাইটে একটি রেলস্টেশন স্থাপন করা হলে শুধু একটি স্টেশনের দাবি পূরণ হবে না, বরং দক্ষিণ মুরাদনগরসহ আশপাশের কয়েকটি ইউনিয়নের যাতায়াতব্যবস্থা, শিক্ষা, চিকিৎসা ও স্থানীয় কৃষিপণ্য পরিবহনে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
দক্ষিণ মুরাদনগর কল্যাণ সমিতির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মোঃ রেজাউল করিমের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ আব্দুল হান্নানের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সহ-সভাপতি আব্দুল আজিজ মোল্লা, এ এফ এম কালাম উদ্দিন সেলিম, নির্বাহী সদস্য এ কে এম কায়েস মীর, যুগ্ম সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম কালাম, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ শাহজালাল খান, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম গাজী এবং কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আমির হোসেন।
মানববন্ধন থেকে বক্তারা হুশিয়ারি ও আকুল আবেদন জানিয়ে একসুরে বলেন—’উন্নয়নের স্বার্থে আমাদের ন্যায্য দাবি পূরণ হোক, মুরাদনগরে রেলস্টেশন চাই।’ কর্তৃপক্ষের ইতিবাচক সদিচ্ছায় এই স্বপ্নের বাস্তবায়ন ঘটবে বলে উপস্থিত সবাই আশাবাদ ব্যক্ত করেন।