• বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬, ১২:৫৫ পূর্বাহ্ন

মুরাদনগরে তালের শাঁসের বাজার রমরমা

Reporter Name / ৫১৩ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ৮ জুন, ২০২৩

মুরাদনগর(কুমিল্লা) প্রতিনিধি:
“আম জাম বড়ই পেপে পাকা আনারস, এলো আবার মধু মাস রসে টসটস।” বাহারি রসালো ফলের সমারোহ নিয়ে এলো মধু মাস। হাটে-বাজারে, রাস্তায়-ফুটপাতে, শহরে-গ্রামে এখন শুধু বিভিন্ন রসালো ফলের সমারোহ। দেখলেই যেন জিভে জল এসে যায়। এমন-ই এক রসালো ফল হলো তালের শাঁস। গ্রামগঞ্জের সকলেই চেনেন এ ফলটি। তাল ফলের নরম অংশটি খুবই সুস্বাদুু। প্রচন্ড গরমে তালের এই শাঁসটি মানুষের কাছে খুবই প্রিয়। অ ল ভিত্তিক এর বিভিন্ন নাম রয়েছে। মধুমাসের এ ফলকে কেউ বলে তালের শাঁস, কেউ বলে তালকুর, কেউ বলে তালের আটি, কেউ বলে লেওয়া। আমাদের অ লে একে বলা হয় তালের ডাব। এর রয়েছে অনেক পুষ্টি গুণ। তাই এ মধুমাসে বাজারে নানা ফলের সাথে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেছে তালের শাঁস।
বর্তমান সময়ে কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর উপজেরা সদর থেকে শুরু করে গ্রামের বিভিন্ন অলি-গলি, পাড়া-মহল্লাতে এই মৌসুমী ফল তালের শাঁস বিক্রি বেড়ে গেছে। অনেক মৌসুমী ব্যবসায়ীরা তাল গাছ থেকে অপরিপক্ক তাল ফল পাইকারী কিনে এনে কেটে কেটে বিভিন্ন দামে বিক্রয় করে থাকে। তবে নরম অবস্থায় তাল শাঁসের দাম অনেক বেশি।
গ্রীষ্মের এই তাপদাহে মুরাদনগরে তালের শাঁস প্রাণ জুড়াচ্ছে পথিকের। গতকাল উপজেলার সদর বাজার এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, রহিমপুর গ্রামের তালের শাঁস বিক্রেতা ফারুক মিয়া (২৫) তাল শাঁস বিক্রি করছেন। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ তাল শাঁসের দোকানে ক্রেতাদের অনেক ভীড়। বিক্রেতা শাঁস কেটে সারতে পারছে না, ক্রেতারা দাঁড়িয়ে রয়েছে শাঁস নিতে।
বহু বছর ধরে তালের শাঁস বিক্রি করে আসা দড়িকান্দি গ্রামের মনির মিয়া (৪৫) বলেন, প্রতি বছরই এ সময়ে তালের শাঁস বিক্রি করে সংসার চালান। গ্রাম অ লে ঘুরে ঘুরে তাল ক্রয় করে গাছ থেকে পেরে এনে শাঁস বিক্রি করেন। জৈষ্ঠ্যে মাস পর্যন্ত চলবে তালের শাঁস বিক্রি। প্রতিদিন প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ টি তাল বিক্রি করা যায়। একটি শাঁস (চোখ) আকার ভেদে ১০ থেকে ১৫ টাকা দরে বিক্রি করছি। এতে তার ভালই লাভ হয় বলে জানান।
ক্রেতা শিক্ষক শাহাদাৎ হোসেন টিপু বলেন,“তালশাঁস আমার অনেক পছন্দের। তাছাড়া বাচ্চারাও পছন্দ করে। তবে গতবারের তুলনায় এবার দাম বেশি। দাম যা-ই হোক, বছরে এ ফল একবারই পাওয়া যায়। তাই নিতে এসেছি।”
সুস্বাদু এই তালের শ্বাসের গুনাগুন সম্পর্কে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ এনামুল হক বলেন, “তালের শাঁস শরীরের ইলেক্ট্রোলাইট (সোডিয়াম ও পটাসিয়াম) ভারসাম্য ঠিক রাখতে সহায়তা করে। গরমে শরীরের বাড়তি পানির চাহিদা মেটাতে সাহায্য করে এই ফল। আয়রন থাকে বলে রক্তশূন্যতা দূর করতে সহায়তা করে। এছাড়া তালের শাঁসে ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, বি কমপ্লেক্স এবং ক্যালসিয়াম রয়েছে যা দৃষ্টিশক্তি রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা ও শারীরিক গঠনে ভূমিকা রাখে।”
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা পাভেল খান পাপ্পু বলেন, “বাণিজ্যিক ভাবে এই তাল গাছের তেমন বাগান নেই। সাধারণত বসত বাড়ী বা রাস্তার পাশে  মানুষ তালগাছ রোপন করে থাকে। তালগাছ লম্বা হওয়ার কারণে বজ্রপাত রোধে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। এ ছাড়াও ঘূর্ণিঝড়ের সময় বাতাসের  গতি রোধ করে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে পারে। উপজেলা কৃষি অফিস হতে কৃষকদের উদ্বুদ্ধকরণ এর মাধ্যমে তালের বীজ রোপন করা হচ্ছে।”


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category