নিজস্ব প্রতিনিধি।।
কুমিল্লার মুরাদনগরে ভেজাল ও শিশুস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর খাদ্যপণ্য উৎপাদনের অভিযোগে দুই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালিত হয়েছে। অভিযানে বিপুল পরিমাণ নিম্নমানের ও ভেজাল খাদ্যপণ্য জব্দ করা হয়। একই সঙ্গে দুই প্রতিষ্ঠানকে মোট ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা জরিমানা এবং একটি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
সোমবার (৮ জুন) দুপুরে উপজেলার নবীপুর পশ্চিম ইউনিয়নের কয়েকটি খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানে এ অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো: সাকিব হাছান খান।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র বিভিন্ন ধরনের রং, কেমিক্যাল ও পাউডার মিশিয়ে শিশুদের জন্য ক্ষতিকর খাদ্যপণ্য উৎপাদন ও বাজারজাত করে আসছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে এসব অনিয়মের সত্যতা পাওয়া যায়।
অভিযানকালে ‘জো জো গ্লাস ড্রিংকস’, ‘আর্টিফিশিয়াল ফ্লেভার্ড ড্রিংকস’, ‘জো জো এডিবল জেল’, বিভিন্ন ফ্লেভারের আইস ললি এবং কোকোনাট ফ্লেভার্ড পানীয় উৎপাদনে অতিরিক্ত রং ও ক্ষতিকর কেমিক্যাল ব্যবহারের প্রমাণ মেলে। এ অপরাধে বাদল ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেডকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
একই সময়ে বি-বাড়িয়া বেকারিতে অনুমোদনহীন অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বাটার বন, কেক, বিস্কুট, ক্রিম বন, ক্রিম কেক ও ক্রিম রোল উৎপাদনের অভিযোগে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ২০০ কেজি ব্রেড ও বিস্কুট জব্দ করা হয়, যা পরে উন্মুক্ত নিলামের মাধ্যমে পশুখাদ্য হিসেবে বিক্রি করা হয়।
অভিযানে প্রসিকিউটর হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বিএসটিআই কুমিল্লা কার্যালয়ের মো. ইকবাল আহম্মদ ও প্রকৌশলী আরিফ উদ্দিন প্রিয় এবং মুরাদনগর থানার এসআই আব্বাস আহমেদসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাকিব হাছান খান বলেন, ‘জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ভেজাল ও নিম্নমানের খাদ্যপণ্য উৎপাদনকারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে। জনস্বার্থে কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাশত করা হবে না।’