• বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ০২:২০ পূর্বাহ্ন
Headline
বিশ্বময় ইসলাম প্রচারের গুরুত্ব ড. মুহাম্মদ নাছিরউদ্দীন সোহেল মুরাদনগরে ‘জুলাই শহীদ দিবস’ উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্টিত মুরাদনগরে কৃষক কার্ড বিতরণ উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত বন্দরে প্রবাসীর স্ত্রী স্বামীর সাথে অভিমান করে আত্মহত্যা মুরাদনগরে আল্লামা শাহ সুফি আব্দুল জলিল শাহ্ (রহঃ) এর ৬ষ্ঠ বার্ষিক ওফাত শরিফ উপলক্ষে মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত দারোরা দীনেশ চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি হলেন কায়েস আহমেদ মীর তৃতীয়বার নেত্রকোনার শ্রেষ্ঠ ট্রাফিক পুলিশ অফিসার আসাদুজ্জামান মুরাদনগরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে বিএনপির প্রস্তুতিমূলক মতবিনিময় সভা দুই ডাকাতি মামলায় সংঘবদ্ধ চক্রের ৫ সদস্য গ্রেপ্তার, উদ্ধার স্বর্ণালংকার ও শটগান মুরাদনগরে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেল জাবির ইবনে ওমর

মুরাদনগরে কৃষি জমি মাটি যাচ্ছে ইটভাটায় সক্রিয় ডজন খানেক সিন্ডিকেট

Reporter Name / ১১৩ Time View
Update : রবিবার, ১৫ মার্চ, ২০২৬

 

নিজস্ব প্রতিনিধি।।

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় ডজনখানেক মাটিখোকো সক্রিয় সিন্ডিকেটের খপ্পরে পরে বিলীন হয়ে যাচ্ছে শতশত একর তিন ফসলী কৃষি জমি।
উর্বর এই জমির গুলোর টপ সয়েল যাচ্ছে বিভিন্ন ইট ভাটায়। উপজেলার সচল প্রায় চল্লিশটি ইট ভাটার মাটির জোগান দিতে প্রতিনিয়ত বিলীন হয়ে যাচ্ছে ফসলী জমি। জমির পাশাপাশি গোমতী নদীর চরের মাটি গুলোও প্রতিনিয়ত লুটে নিচ্ছে এই মাটি খেকো সিন্ডিকেট চক্রের সদস্যরা।
সরেজমিন দেখা যায় উপজেলার পীরকাশিমপুর, সোনাকান্দা, দিঘীরপাড়, যাত্রাপুর, টনকী, গুঞ্জর, নবীপুর, শোলাপুকুরিয়া, রামচন্দ্রপুর, ছালিয়াকান্দি, কাজিয়াতল, বাখরাবাদসহ বিভিন্ন এলাকার বিলে রাতের আঁধারে আবার কোথাও দিনের আলোতে ভেকু দিয়ে ফসলি জমির মাটি কেটে নিচ্ছে চক্রের সদস্যরা। সারি সারি ড্রাম ট্রাকে করে মাটি পৌছে দিচ্ছেন বিভিন্ন ইটভাটায়।
এই মাটি সিন্ডিকেটের সদস্যরা হলো ইকবাল হোসেন, গিয়াস উদ্দিন, সালাউদ্দিন, জাহাঙ্গীর আলম, হাবীব মিয়া, জান্টু খান, সাত্তার ভূইয়া, বাসির মিয়া, সজিব মিয়া, কবির হোসেনসহ আরো একাধিক সদস্য।
স্থানীয় প্রশাসন মাঝে মধ্যে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান পরিচালনা করলেও কোনভাবে দামনো যাচ্ছে না এই মাটি খেকোদের। কৃষি নির্ভর এই বাংলাদেশে ৩ফসলি জমির মাটি লুটে নেয়ার অনাবাদি হয়ে যাচ্ছে শতশত হেক্টর ফসলি জমি। দ্রুত কৃষি জমি কমতে থাকায় ভবিষ্যতের জন্য অশনিসংকেত।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, মুরাদনগর উপজেলার কৃষি জমিগুলো অত্যন্ত উর্বর। প্রতিবছর এসব জমিতে তিনবার ধানসহ বিভিন্ন ফসলের আবাদ হয়। কিন্তু অবৈধভাবে উর্বর মাটি গুলো কেটে নেওয়ায় জমি গুলো স্থায়ীভাবে জলাশয় পরিণত হচ্ছে। অনেকের ইচ্ছে না থাকা সত্ত্বেও জমিগুলো স্বল্পমূল্যে তাদেরকে দিতে বাধ্য হচ্ছে। প্রভাবশালীদের ছত্রছায়া কারণে কৃষকদের কিছুই করার থাকেনা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের কঠোর নজরদারি না থাকায় প্রভাবশালী মহলের সহায়তায় অবৈধভাবে মাটি কাটা অব্যাহত রয়েছে। মাটি কাটা বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ না নিলে সে জমিগুলো হারিয়ে যাবে। ফসল উৎপাদন ব্যাপকভাবে ব্যাহত হবে।

কৃষিবিদ পাভেল খান পাপ্পু বলেন, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে আমরা জানতে পেরেছি খণ্ড খণ্ডভাবে কৃষি জমি থেকে মাটি কাটা হচ্ছে। এতে শুধু নির্দিষ্ট জমিই নয়, আশপাশের জমির উর্বর টপসয়েল সামান্য বৃষ্টির পানিতেই ধুয়ে অন্যত্র চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে পার্শ্ববর্তী জমিগুলোর উৎপাদনশীলতাও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, কৃষি জমি রক্ষা করা যেমন প্রশাসনের দায়িত্ব, তেমনি এটি একটি সামাজিক দায়বদ্ধতার বিষয়। তাই অবাধে কৃষি জমি থেকে মাটি কাটা বন্ধে সকলকে ঐক্যবদ্ধ ভাবে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।

এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাকিব হাসান খান বলেন, কৃষি জমি থেকে মাটি কাটা বন্ধে বিভিন্ন এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান অব্যাহত আছে। জেল ও জরিমানা করা হচ্ছে। অবৈধভাবে মাটি লুটকারীদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category