• শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:০১ অপরাহ্ন
Headline
মুরাদনগরে ইয়াবাসহ যুবক গ্রেপ্তার মাদরাসায় বলাৎকার বন্ধে সরকার কঠোর অবস্থানে: ধর্মমন্ত্রী মুরাদনগরে ৪৯ পিস ইয়াবাসহ ১১ মামলার আসামি গ্রেপ্তার মুরাদনগরে শারদীয় দুর্গোৎসব: বিভিন্ন পূজা মণ্ডপ পরিদর্শনে ওসি মুরাদনগরে সংগঠন বিরোধী কর্মকান্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে দুই যুবদল নেতাকে শোকজ সোনারগাঁয়ে মাদক, ডাকাতিসহ বিশেষ অভিযানে ১৯ জন গ্রেপ্তার সোনারগাঁয়ে ভাড়া বাসা থেকে গার্মেন্টস কর্মীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার সোনারগাঁয়ে ১০১ পিস ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার মুরাদনগরে পূজা মণ্ডপ পরিদর্শনে বিএনপি নেতা সৈয়দ মোস্তাক আহমেদ সোনারগাঁয়ে দুর্গাপুজায় সপরিবারে ভারতীয় উপ হাইকমিশনার

১০৯ পদ শূন্য, জনবল সংকটে ধুঁকছে মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

Reporter Name / ১৭৬ Time View
Update : সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬

 

নিজস্ব প্রতিনিধি।।

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিনের জনবল সংকট, চিকিৎসক ও টেকনিশিয়ানের অভাব এবং অবকাঠামোগত সমস্যার কারণে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ২২টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত প্রায় ৬ লাখ মানুষের এই বৃহৎ উপজেলায় সরকারি স্বাস্থ্যসেবার প্রধান কেন্দ্রটি বর্তমানে নানা সংকটে জর্জরিত।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অনুমোদিত জনবলের সংখ্যা ২৮২ হলেও বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ১৭৩ জন। ফলে ১০৯টি পদ শূন্য রয়েছে। অনুমোদিত ১০ জন কনসালটেন্টের মধ্যে কর্মরত আছেন মাত্র ৫ জন। ৪৫ জন মেডিকেল অফিসারের বিপরীতে দায়িত্ব পালন করছেন ২৩ জন। এছাড়া কয়েকজন চিকিৎসক বিনা অনুমতিতে অনুপস্থিত এবং কয়েকজন প্রেষণে অন্যত্র কর্মরত রয়েছেন।

নার্সিং সেবাতেও রয়েছে বড় ধরনের সংকট। অনুমোদিত ৪২ জন নার্সের মধ্যে কর্মরত আছেন ২৮ জন। তৃতীয় শ্রেণির ১৫৬টি পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন ১০২ জন এবং চতুর্থ শ্রেণির ২৯টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ১৪ জন।

জনবল সংকটের প্রভাব পড়েছে হাসপাতালের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সেবায়। নিরাপত্তাকর্মী রয়েছেন মাত্র একজন। পরিচ্ছন্নতাকর্মী আছেন দুইজন, ফলে বিশাল হাসপাতাল চত্বর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এক্স-রে টেকনিশিয়ানের অভাবে দীর্ঘদিন ধরে এক্স-রে সেবা কার্যত বন্ধ। প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় অপারেশন থিয়েটারও প্রায় অচল অবস্থায় রয়েছে। আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন থাকলেও দক্ষ টেকনিশিয়ানের অভাবে রোগীরা সেই সেবা পাচ্ছেন না।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এত বড় একটি উপজেলার স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা এভাবে চলতে পারে না। দ্রুত শূন্য পদ পূরণ এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়ন না হলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে।

এদিকে হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য পর্যাপ্ত আবাসন সুবিধাও নেই। বিদ্যমান আবাসন ভবনগুলো দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রায় দুই বছর আগে আবেদন করা হলেও এখনো কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে পরিত্যক্ত ভবনগুলো হাসপাতাল চত্বরে অপরিচ্ছন্ন ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করছে।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, প্রতিদিন গড়ে ৭০০ থেকে ৮০০ রোগী চিকিৎসাসেবা নিতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসেন। কিন্তু জনবল সংকটের কারণে তাদের কাঙ্ক্ষিত সেবা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নুসরাত জাহান বলেন, “প্রয়োজনীয় জনবলের অভাবে সঠিকভাবে স্বাস্থ্যসেবা দিতে আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। শূন্য পদ পূরণসহ বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হয়েছে। তবে এখনো কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।”

এ বিষয়ে কুমিল্লার সিভিল সার্জন ডা. আলী নূর মোহাম্মদ বশির আহমেদ বলেন, “সরকার স্বাস্থ্য খাতে ৫ হাজার চিকিৎসক, নার্সসহ প্রায় এক লাখ জনবল নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে। আশা করছি আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে জনবল সংকট অনেকাংশে দূর হবে এবং স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নত হবে।”

মুরাদনগরবাসীর দাবি, দ্রুত শূন্য পদে নিয়োগ, অচল সেবাগুলো চালু এবং আবাসন সংকট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে উপজেলার লাখো মানুষ মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হতে থাকবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category