• শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৪৯ পূর্বাহ্ন
Headline
মুরাদনগরে ফেক আইডি ব্যবহার করে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে অপপ্রচার, থানায় জিডি হোসেনপুর এস.পি. ইউনিয়ন ডিগ্রি কলেজে একাদশ শ্রেণির ক্লাস উদ্বোধন হোসেনপুর এস.পি. ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা মহানবী (সা.) সমগ্র সৃষ্টির জন্য রহমত ড. মুহাম্মদ নাছিরউদ্দীন সোহেল বাঙ্গরায় ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে ‘মদিনার সবুজ গম্বুজ সুন্নী সংগঠন’-এর শুভ উদ্বোধন মুরাদনগরে মাদকসেবী ও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি শাহীন গ্রেপ্তার, ৩ মাসের কারাদণ্ড মুরাদনগরে ভোক্তা অধিকারের অভিযান: ৫ প্রতিষ্ঠানে ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা জরিমানা সাদেকুর রহমানের মৃত্যুতে মোহাম্মদ বজলুর রহমানের শোক প্রিয় শিক্ষকদের সান্নিধ্যে হোসেনপুর এস.পি. ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮৮ ব্যাচের পুনর্মিলন সোনারগাঁয়ে আলোচনায় মেম্বার পদপ্রার্থী আল-আমিন,তার নিজস্ব অর্থায়নে এলাকার উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন

বৈশাখী উৎসবকে ঘিরে মুরাদনগরে মৃৎ শিল্পীদের ব্যস্ততা

Reporter Name / ৪৯৮ Time View
Update : সোমবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৪

মুরাদনগর (কুমিল্লা) প্রতিনিধিঃ
অল্প কিছুদিন পরই বাঙালির চিরাচরিত প্রাণের উৎসব পয়লা বৈশাখ। বৈশাখ উপলক্ষে কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বসবে বৈশাখী মেলা। সেই উৎসব পালনে প্রস্তুতিও চলছে বেশ জোরেশোরেই। এ মেলাকে কেন্দ্র করে মাটির তৈরি বিভিন্ন ধরনের খেলনা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন উপজেলার মৃৎ শিল্পীরা। পাল বাড়ির নারী ও পুরুষ সদস্যরা মিলে মাটির এসব জিনিসপত্র তৈরি করে দিন পাড় করছেন। এমনকি স্কুল ও কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীরাও এ কাজে তাদের বাবা-মাকে সাহায্য করে থাকে।
সরেজমিনে উপজেলার রামচন্দ্রপুর ও কামাল্লার পাল পাড়া এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে আবহমান গ্রাম বাংলার প্রচীন ঐতিহ্য মৃৎ শিল্পকে ধরে রেখেছেন এখানকার মৃৎ শিল্পীরা। বৈশাখের মেলাকে ঘিরে ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ঘরে বা আঙ্গিনায় বসে মৃৎ শিল্পীরা মাটি দিয়ে পুতুল, হাতি, ঘোড়া, ময়ুর, হাড়িসহ বিভিন্ন খেলনা ও সাংসারিক কাজে ব্যবহারযোগ্য বিভিন্ন সামগ্রী তৈরি করছেন। হাতে তৈরী এসব কাঁচা মাটির জিনিসপত্র রোদে শুকানো হচ্ছে। পরে আগুনে পুড়িয়ে রং করা হচ্ছে। তবে বৈশাখকে ঘিরে একসময় কুমার পাড়া গুলোতে যে উৎসব মুখর পরিবেশ ছিল এখন আর সেই আগের মতো আমেজ নেই মৃৎশিল্পীদের মাঝে। প্লাস্টিক পণ্যের কারণে মাটির তৈরি খেলনার চাহিদার কদর অনেক কমে গেছে। ফলে লাভ কম হওয়ায় এসব পণ্য তৈরিতে আগ্রহ হারাচ্ছেন তারা। তারপরও বাপ-দাদার এ পেশাকে এখনো ধরে রেখেছেন অনেকে।
রামচন্দ্রপুর পাল পাড়ার প্রবীণ ব্যবসায়ী রুপচান পাল বলেন, এখন আগের মত মাল চলেনা, মাটি পাওয়া যায় না। আগে আমাদের এ পাড়ায় ৮০ টি পরিবার এ শিল্পের সাথে জড়িত ছিল। এখন কমতে কমতে ৪/৫টি পরিবার এ শিল্পটিকে ধরে রেখেছে। সরকার যদি আমাদের জন্য কিছু প্রণোদনার ব্যবস্থা করতেন তাহলে এ শিল্পটি বাচিয়ে রাখতে পারতাম।
কামাল্লা গ্রামের সুমন পাল বলেন, প্লাস্টিকের পণ্য বাজার দখল করায় এখন মাটির তৈরি জিনিস পত্র তেমন একটা বিক্রি হয় না। আর মাটি থেকে শুরু করে সব কিছুর দাম যে পরিমানে বাড়ছে কাজ করে আর লাভের মুখ তেমন দেখিনা। ফলে অনেকে এ পেশা ছেড়ে দিয়ে অন্য পেশায় চলে গেছেন। এ শিল্পগুলোকে টিকিয়ে রাখতে হলে সরকারের সুদৃষ্টি প্রয়োজন। তা না হলে এক সময় এ শিল্পটি হারিয়ে যাবে।
রামচন্দ্রপুর কুমার পাড়ার শোভা রাণী বলেন, আগের মত মাটির হাড়ি পাতিলের কদর নেই। এখন বিভিন্ন মেলায় বিক্রির জন্য মাটির খেলনা সামগ্রী ও সাংসারিক কাজের জিনিসপত্র তৈরি করে থাকি। জীবিকার জন্য পূর্ব-পুরুষদের পেশাটি এখনও ধরে রাখার চেষ্টা করছি।
মুরাদনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) নাসরিন সুলতানা নিপা বলেন, ঐতিহ্যবাহী শিল্পগুলোকে সংরক্ষণের জন্য বাংলাদেশ সরকার সবসময় সচেষ্ট এবং উপজেলা প্রশাসন সবসময় মৃৎশিল্পীদের পাশে আছে। সরকারি প্রণোদনা আছে। মৃৎশিল্পীরা আগ্রহী হলে সরকারি প্রণোদনার ব্যবস্থা করে দেওয়া যাবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category